ঢাকা সফররত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্ব কেবল প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ওপর টিকে নেই, বরং এর আসল ভিত্তি হলো দুই দেশের জনগণের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক। শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজধানীর বিমানবাহিনী জাদুঘরে ‘ফ্রিডম ২৫০ আমেরিকা সপ্তাহ’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক যৌথ সংগীতানুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ব্যান্ড এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর ২৫তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের ‘ট্রপিক লাইটনিং’ ব্যান্ডের এই যৌথ পরিবেশনা ছিল দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বের এক অনন্য নিদর্শন।
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন সংগীতকে ‘বিশ্বের অন্যতম সেরা কূটনীতিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, সামরিক সংগীতশিল্পীরা সংগীতের সর্বজনীন ভাষার মাধ্যমে দেশগুলোর মধ্যে চমৎকার সেতুবন্ধ তৈরি করেন। অনুষ্ঠানে তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের ব্যান্ডের সদস্যরা প্রথমবারের মতো পরিচিত হয়েও যেভাবে সুরেলা সংযোগ স্থাপন করেছেন, তা প্রমাণ করে যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পর্ক গড়ে তোলা কতটা সহজ ও ফলপ্রসূ হতে পারে। বিমানবাহিনী জাদুঘরকে এই অনুষ্ঠানের জন্য বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি এটিকে দুই দেশের বিমানবাহিনীর ঘনিষ্ঠ ও দৃঢ় সম্পর্কের প্রতীক বলে অভিহিত করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি কেবল একটি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ছিল না, বরং এটি দুই দেশের সামরিক বাহিনীর বিদ্যমান আস্থার প্রতিফলন। রাষ্ট্রদূত বলেন, মানবিক সম্পর্কই বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতার প্রতিটি ক্ষেত্রের মূল ভিত্তি এবং তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে দিন দিন আরও শক্তিশালী করছে। তিনি বিশ্বাস করেন, এ ধরনের বিনিময় কর্মসূচি দুই দেশের জনগণের মধ্যে আস্থার জায়গা তৈরি করে এবং ভবিষ্যতের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়। অনুষ্ঠান শেষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অতিথিদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বাকি কর্মসূচিগুলোতে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান এবং দুই দেশের এই মধুর সম্পর্ক অটুট রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন