শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রামকৃষ্ণ মিশন পরিদর্শনের সময় সংবিধানে স্বীকৃত সবার অধিকার রক্ষা ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানালেন রাষ্ট্রপতি।
সংবিধানে প্রদত্ত প্রতিটি নাগরিকের অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখতে দেশের সব সম্প্রদায় ও ধর্মের মানুষকে একতাবদ্ধ হয়ে সচেতনভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, "সংবিধান প্রতিটি ধর্মের মানুষকে যে অধিকার দিয়েছে, তা রক্ষা করতেই হবে। কোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে তার বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে।"
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানীর ঐতিহাসিক রামকৃষ্ণ মিশন পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "আমরা এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই যেখানে প্রত্যেকটি ধর্মের মানুষ পরম শান্তিতে ও সুখে বসবাস করবে। এ দেশের নাগরিকরা যে ধর্মেরই অনুসারী হন না কেন, তারা নিজেদের অধিকার রক্ষায় অত্যন্ত সচেতনভাবে কাজ করবেন এবং কোথাও কোনো অন্যায় বা ব্যত্যয় ঘটলে তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।"
বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যকার এই সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ হাজার বছরের সম্প্রীতির ইতিহাসে গড়ে উঠেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমাদের এই আত্মার বন্ধন ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ যেকোনো মূল্যে অটুট রাখতে হবে। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে, কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে আমাদের দীর্ঘদিনের সুদৃঢ় সম্প্রীতিতে ফাটল ধরানোর অপচেষ্টা করেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও আমাদের ঐতিহ্যবিরোধী।"
দেশে সুস্থ ধারার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়ে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, "আমরা একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘ সংগ্রাম করেছি, যেখানে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকার সুনিশ্চিত হবে। সেই গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি, আর এতে সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত সমর্থন ও সহযোগিতা প্রয়োজন।"
তরুণ প্রজন্মের ওপর আস্থা প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ তরুণদের হাতে। তরুণদের এমন এক প্রগতিশীল সমাজ গঠন করতে হবে যেখানে কূপমণ্ডূকতা, অন্ধ কুসংস্কার, কিংবা ধর্মের নামে কোনো উগ্রতার স্থান থাকবে না। রাষ্ট্র তখনই দুর্বল হয় যখন নাগরিকদের মাঝে বিভক্তি তৈরি হয়,তাই যেকোনো পরিস্থিতিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ছাত্রজীবনে তিনি নিজে দুর্গাপূজার মণ্ডপে গিয়ে নাটক ও আবৃত্তি পরিবেশন করতেন। এ বছর দেশজুড়ে অত্যন্ত নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দেশের সকল সনাতন ধর্মাবলীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানান।
রামকৃষ্ণ মিশন পরিচালনা পর্ষদের সহ-সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী পূর্ণাত্মানন্দ এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।