চট্টগ্রামের ও.আর. নিজাম রোডে সরকারি ফুটপাত দখল করে র্যাম্প নির্মাণ করছে মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল। চরম ঝুঁকিতে পথচারীরা, চসিক ও সিডিএতে লিখিত অভিযোগ।
জনস্বার্থ ও আইনকানুন সম্পূর্ণ তোয়াক্কা না করে সাধারণ মানুষের চলাচলের ফুটপাত দখল করে উঁচু ও ঢালু র্যাম্প নির্মাণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের ও.আর. নিজাম রোড আবাসিক এলাকার মেডিকেল সেন্টার লিমিটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য মতে, সরকারি ফুটপাতের প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ ফুট জায়গা জবরদখল করে হাসপাতালের অনাবশ্যক এই নির্মাণকাজ চলায় পথচারীদের চলাচলের পথ মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে শিশু, নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিসহ সাধারণ পথচারীদের ব্যস্ত মূল সড়কে নেমে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেও কোনো সুরাহা না পাওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
এই পরিস্থিতিতে জনভোগান্তি নিরসন ও ফুটপাত সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করার পাশাপাশি র্যাম্প নির্মাণের বৈধতা খতিয়ে দেখতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে ও.আর. নিজাম রোড আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতি। অভিযোগে বলা হয়, জনবহুল আবাসিক সড়কের সরকারি অবকাঠামো দখল করে নির্মাণকাজ চালানের ফলে নাগরিকদের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং কৃত্রিম যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তাই সিডিএর অনুমোদিত নকশা যাচাই করে দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানানো হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের সীমানা ঘেঁষে ফুটপাতের ওপর নতুন করে ইটের গাঁথুনি দিয়ে সীমানাপ্রাচীর ও ঢালু র্যাম্পের ভিত্তি গড়ে তোলা হচ্ছে। আগের সীমানা পেরিয়ে ফুটপাতের দিকে বাড়তি অংশ সম্প্রসারণ করায় পুরো হাঁটার পথ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ও.আর. নিজাম রোড আবাসিক এলাকায় ৮০০টিরও বেশি পরিবার বসবাস করে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের এই পথে হাসপাতালের এমন বেআইনি পদক্ষেপে জনমনে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাইলে তাদের নিজস্ব সীমানার ভেতরে নকশা সংশোধন করে র্যাম্প তৈরি করতে পারত। তা না করে ক্ষমতার জোরে ফুটপাত দখল করে নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে। ও.আর. নিজাম রোড আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ বাশার জানান, এত বড় একটি বাণিজ্যিক হাসপাতালের সামনে অন্তত ৫ থেকে ৭ ফুট জায়গা খালি রাখা দরকার ছিল, যা তারা রাখেনি। সিডিএ ও চসিকের কাছে লিখিত আবেদন জানানোর পর কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে যে ফুটপাতের অবৈধ অংশটি ভেঙে দেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর সাড়া মেলেনি। তবে চাপ ও অভিযোগের মুখে মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালের অ্যাডমিন ম্যানেজার মোহাম্মদ সেলিম জানান, ফুটপাতের দিকে বাড়ানো বিতর্কিত দেয়াল ও অংশটি তারা দ্রুত সরিয়ে নেবেন।