দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি) শিক্ষক সংকট নিরসনে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। প্রতিষ্ঠানটি তাদের নবম গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু করেছে। এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, ৬৯ হাজার ৫৭৭টি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদনের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সবুজ সংকেত মিললেই দ্রুত সময়ের মধ্যে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করতে এবার বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। এনটিআরসিএর নতুন পদ্ধতিতে এখন থেকে সরাসরি নিবন্ধন সনদের ভিত্তিতে নয়, বরং বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নতুন নিয়মে ২০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা এবং ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে প্রার্থীদের ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। যারা চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হবেন, কেবল তাদেরই এনটিআরসিএ থেকে শিক্ষক নিয়োগের সনদ প্রদান করা হবে।
চলতি বছর ১৫ এপ্রিল ই-রিকুইজিশন এবং ই-রেজিস্ট্রেশনের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর শূন্য পদের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৭৫ হাজার ৭৬৯টি শূন্য পদ থেকে ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের জন্য সংরক্ষিত পদসহ কিছু পদ বাদ দিয়ে চূড়ান্ত করা হয় ৬৯ হাজার ৫৭৭টি পদ। এনটিআরসিএ সচিব এ এম এম রিজওয়ানুল হক জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার সাথে সাথেই তারা পরীক্ষার সময়সূচিসহ বিস্তারিত ঘোষণা করবেন।
২০১৫ সালে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে এনটিআরসিএ এ পর্যন্ত সাতটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে। গত ৫ জানুয়ারি ২০২৬ সালে সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৬৭ হাজার ৮৭টি শূন্য পদে এবং পরবর্তীতে অষ্টম বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১২ হাজার ৯৫১টি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। নতুন এই নবম গণবিজ্ঞপ্তি হাজারো চাকরিপ্রার্থীর জন্য একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগের অপেক্ষায় আছেন, তাদের মধ্যে এই বিজ্ঞপ্তি ঘিরে নতুন করে আশা জেগেছে। নিয়োগ পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তনের ফলে যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীরা সঠিক মূল্যায়নের সুযোগ পাবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন