ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে হাজারো মানুষের হাতে উড়তে দেখা গেছে লাল রঙের পতাকা। ইরানের জাতীয় পতাকার রঙের সঙ্গে এর কোনো মিল না থাকায় বিশ্বজুড়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে কেন এই লাল পতাকা? শিয়া ঐতিহ্যে এই লাল পতাকার গুরুত্ব কেবল শোক প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে গভীর ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য।
তাসনিম নিউজের তথ্যানুযায়ী, শোকানুষ্ঠানে ব্যবহৃত এই লাল পতাকায় আরবি ভাষায় খোদাই করা ছিল ‘ইয়া লি-সারাতিল হুসাইন’। যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায় ‘হুসাইনের রক্তের প্রতিশোধের আহ্বান’। কারবালার প্রান্তরে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শাহাদাতের স্মৃতির সঙ্গে এই স্লোগানটি অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে। শিয়া ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী, লাল পতাকা হলো এমন এক রক্তের প্রতীক, যার বিচার এখনো সম্পন্ন হয়নি। মহরমের শোকানুষ্ঠানে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হলেও বিশেষ পরিস্থিতিতে এটি অন্যায়ের বিচার, প্রতিরোধ এবং নিহত নেতার প্রতি চূড়ান্ত আনুগত্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
খামেনির বিদায় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী জনতার হাতে থাকা এই লাল পতাকা মূলত তার হত্যাকাণ্ডের বিচার ও জবাবদিহির দাবির এক বলিষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ। বিদায় অনুষ্ঠানে ‘প্রতিশোধ’ স্লোগান এবং এই পতাকার উপস্থিতি ইরানের বর্তমান উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনির মৃত্যুর পর ইরানজুড়ে যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তাতে এই পতাকা বহন করাকে অনেকেই বিচার চাওয়ার আইনি ও ধর্মীয় প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছেন।
ইরানি কর্তৃপক্ষ এই আয়োজনকে জাতীয় শোক ও সংহতির এক অনন্য প্রকাশ হিসেবে তুলে ধরেছে। একদিকে জাতীয় পতাকা এবং খামেনির প্রতিকৃতি, অন্যদিকে বিচারের প্রতীক হিসেবে লাল পতাকা সব মিলিয়ে তেহরানের গ্র্যান্ড মুসাল্লায় শোকানুষ্ঠানটি যেন প্রতিরোধের এক বিশাল মঞ্চে পরিণত হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, লাল পতাকা বহন করার মাধ্যমে ইরানি জনগণ বিশ্বকে এই বার্তাই দিচ্ছে যে, তাদের নেতার হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই সংহতি ও প্রতিশোধের চেতনা অটুট থাকবে। মূলত, শিয়া দর্শনের এই প্রতীকি ব্যবহার শোকের মুহূর্তকেও রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক শক্তিতে রূপান্তরিত করেছে।
মন্তব্য করুন