পারস্য উপসাগরের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালিতে আবারও বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। শান্তি চুক্তির মাত্র এক সপ্তাহ পার হতে না হতেই শনিবার (২৭ জুন, ২০২৬) একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটেনের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা। এই ঘটনাকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে মারাত্মক সামরিক উত্তেজনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংঘর্ষের নেপথ্যে ঘটনার সূত্রপাত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার মাধ্যমে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তারা ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। জবাবে ইরান দাবি করেছে, মার্কিন বাহিনীর সাথে সম্পৃক্ত লক্ষ্যবস্তুতে তারা পাল্টা আঘাত হেনেছে। ইরান সরাসরি ট্যাঙ্কারে হামলার দায় স্বীকার না করলেও তাদের রেভল্যুশনারি গার্ডস জানিয়েছে, ‘অননুমোদিত’ জাহাজের উদ্দেশ্যে তারা সতর্কতামূলক গুলি বর্ষণ করেছে।
চুক্তি ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র গত দুই সপ্তাহ আগে চার মাসের সংঘাত নিরসনে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে উভয় পক্ষই একে অপরকে চুক্তি লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করছে। একদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যেকোনো সহিংসতার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মহসেন রেজাই দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করছে।
এদিকে, লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যকার নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে, যা সামগ্রিক শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তেল বাজারে প্রভাবের আশঙ্কা শুক্রবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৩ শতাংশ হ্রাস পেলেও, এই নতুন সহিংসতা সোমবার বাজার খোলার পর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে নির্বিঘ্ন জাহাজ চলাচলের প্রশ্নে বর্তমানে ওমানের উপকূলীয় দক্ষিণ লেনের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, অন্যদিকে ইরান তাদের নিয়ন্ত্রিত উত্তর রুট ব্যবহারে বাধ্য করতে এবং ভবিষ্যতে ফি আদায়ের পরিকল্পনা করছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই টানাপোড়েন বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি রবিবারের মধ্যে এই উত্তেজনা প্রশমিত না হয়, তবে সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দামের বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স।
মন্তব্য করুন