মেক্সিকোর বাজা ক্যালিফোর্নিয়ায় ২০২৪ সালে দুই অস্ট্রেলীয় ও এক আমেরিকান সার্ফারকে হত্যার দায়ে তিন আসামিকে ১৫৮ বছর ৯ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন মেক্সিকান আদালত।
মেক্সিকোর বাজা ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ঘুরতে আসা দুই অস্ট্রেলীয় ভাই ও তাঁদের এক আমেরিকান বন্ধুকে নৃশংসবাবে হত্যার দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। ২০২৪ সালের বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগে অভিযুক্ত তিন অপরাধীকে ১৫৮ বছর ৯ মাসের দীর্ঘ কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মেক্সিকোর বিচার বিভাগের এক কর্মকর্তা শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই রায়ের বিষয়টি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন জেসুস জেরার্দো (যিনি স্থানীয়ভাবে 'এল কেকাস' নামে পরিচিত), ইরিনিও ফ্রান্সিসকো এবং অ্যাঞ্জেল জেসুস। এক সপ্তাহ আগে দীর্ঘ শুনানির পর আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে আনীত নরহত্যা, ভয়াবহ সহিংস ডাকাতি এবং অস্ত্র ঠেকিয়ে গাড়ি ছিনতাইয়ের অপরাধসমূহ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দোষী সাব্যস্ত করেন। একই রায়ে বিচারক আসামিদের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানেরও কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই চক্রের সহযোগী গিসেল সিলভা নামের এক তরুণীকে ২০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছিল।
ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের শিকার পর্যটকরা হলেন ৩৩ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় নাগরিক জ্যাক রবিনসন, তাঁর ছোট ভাই ৩০ বছর বয়সী ক্যালাম রবিনসন এবং তাঁদের দীর্ঘদিনের আমেরিকান বন্ধু ৩০ বছর বয়সী জ্যাক কার্টার রোড। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসের শেষের দিকে মেক্সিকোর এনসেনাদা শহর থেকে ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে পুন্টা সান হোসে এলাকায় ক্যাম্পিং ও সার্ফিং করার সময় তাঁরা হঠাৎ নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এবং স্থানীয় পুলিশের যৌথ তল্লাশি অভিযানে ৩ মে গভীর একটি কূপ থেকে তাঁদের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের সময় ছিনতাই হওয়া তাঁদের ব্যবহৃত পিকআপ ট্রাকটি কয়েক কিলোমিটার দূরে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত অবস্থায় পাওয়া যায়। রায় ঘোষণার সময় জুমে যুক্ত হয়ে নিহত মার্কিন তরুণ রোডের মা পেজ রোড এক আবেগঘন বক্তব্যে বলেন যে, সন্তান হারানোর অপূরণীয় ক্ষতি কোনো আদালতের বিচার দিয়ে মেটানো সম্ভব নয়, তবে এই অপরাধীরা যে আর কখনো কোনো পরিবারের ক্ষতি করতে পারবে না তাতেই তিনি কিছুটা হলেও স্বস্তি পাচ্ছেন। একই সঙ্গে শুনানি শেষে নিহত দুই অস্ট্রেলীয় ভাইয়ের পিতামাতাও তাঁদের জীবন থেকে সন্তানদের হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে এক সীমাহীন মানসিক যন্ত্রণা হিসেবে উল্লেখ করেন।
যে এলাকাটিতে এই অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে, তা পর্যটকদের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সমগ্র বাজা ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যটি মেক্সিকোর অন্যতম সহিংস ও অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এই ট্র্যাজিক হত্যাকাণ্ডের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিশেষ ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি জারি করে তাদের নাগরিকদের বাজা ক্যালিফোর্নিয়া এলাকায় ভ্রমণের বিষয়ে পুনর্নির্বিবেচনা করার তীব্র তাগিদ দিয়েছে।