ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযানে ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রত্যক্ষ সহযোগিতার অভিযোগ তুলে এর কঠোর সমালোচনা করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, চলমান এই সংঘাতে ইউরোপীয় দেশগুলো কেবল দর্শক নয়, বরং তারা সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করে আসছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বাঘেই উল্লেখ করেন যে, ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সাম্প্রতিক মন্তব্যই প্রমাণ করে ইউরোপ এই সংঘাতের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ অবস্থানে নেই।
ইসমাইল বাঘেই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যেসব ইউরোপীয় দেশ তাদের ভূখণ্ড, সামরিক ঘাঁটি ও লজিস্টিক অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে, তারা এই আগ্রাসনের ভয়াবহ পরিণতির দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারবে না। সম্প্রতি ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুট ইরানের ওপর চালানো যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ‘প্রয়োজনীয়’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। শুধু তাই নয়, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো যুদ্ধের প্রথম ছয় সপ্তাহে লজিস্টিক সহায়তার অংশ হিসেবে নিজেদের ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার বিমান উড্ডয়নের সুযোগ করে দিয়েছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।
ইরান মনে করছে, ইউরোপের এই অনানুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ যুদ্ধের ভয়াবহতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে এই আগ্রাসনকে ‘বিনা উসকানির হামলা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই সংঘাত এখন কেবল ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এতে ইউরোপের জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতির ফলে ভবিষ্যতে ইরান ও ইউরোপের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন