সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফিডে প্রতিদিন শত শত ছবি ভেসে বেড়ায়, যার একটি বড় অংশই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় অনেক এআই ছবি এত নিখুঁত হয় যে খালি চোখে আসল ও নকলের পার্থক্য করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। তবে কিছু নির্দিষ্ট বিষয় ও সূক্ষ্ম ত্রুটি খেয়াল করলে খুব সহজেই এআই দিয়ে তৈরি ছবি শনাক্ত করা সম্ভব।
প্রথমত, ছবির মানুষের হাত ও আঙুল গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। যদিও এআই প্রযুক্তির উন্নতি হয়েছে, তবুও হাতের অস্বাভাবিক বাঁক, অতিরিক্ত বা কম আঙুল কিংবা দুই হাতের গড়নে অসামঞ্জস্য থাকার প্রবণতা এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। বিশেষ করে একাধিক মানুষের হাত একসঙ্গে থাকলে বা জটিল পোজ থাকলে এই ভুলগুলো সহজে ধরা পড়ে।
দ্বিতীয়ত, চোখ, কান ও মুখের গড়ন যাচাই করুন। নকল ছবিতে চোখের দৃষ্টির অসঙ্গতি, দুই চোখের আকারের তফাত কিংবা কানের গঠনে অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে। এছাড়া চশমা, কানের দুল বা চুলের মতো ছোট ও সূক্ষ্ম উপাদানগুলো অন্য কিছুর সঙ্গে মিশে গেছে কি না বা বিকৃত মনে হচ্ছে কি না, তা খেয়াল করা দরকার।
তৃতীয়ত, ছবির ভেতরের লেখা বা সাইনবোর্ড ভালো করে লক্ষ করুন। এআই মডেলগুলোর লেখার মান উন্নত হলেও এখনো অনেক সময় সাইনবোর্ড, পোস্টার, বইয়ের প্রচ্ছদ বা গাড়ির নম্বরপ্লেটে বানান ভুল, অর্থহীন শব্দ বা বিকৃত অক্ষর তৈরি করে ফেলে।
চতুর্থত, ছবির আলো ও ছায়ার উৎস মিলিয়ে দেখুন। ছবির সমস্ত বস্তুর ওপর আলো একই দিক থেকে পড়ছে কি না তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি কোনো ব্যক্তির মুখের ওপর আলোর কোণ একরকম থাকে অথচ ছায়া উল্টো দিকে পড়ে, তবে সেই ছবি নিয়ে সন্দেহ করার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে।
পঞ্চম ও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো ছবির উৎস যাচাই করা। শুধু চোখের আন্দাজে বা অনুমানের ওপর ভরসা না করে ‘রিভার্স ইমেজ সার্চ’ (Reverse Image Search) ব্যবহার করুন। ছবিটি প্রথম কোথায় প্রকাশিত হয়েছিল এবং এর পেছনের তথ্য নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে মিলছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। বিশেষ করে রাজনীতি, সমাজ, ধর্ম বা যুদ্ধ সম্পর্কিত কোনো সংবেদনশীল ছবি শেয়ার করার আগে এর সত্যতা ও উৎস অবশ্যই যাচাই করা উচিত।
মন্তব্য করুন