ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিরা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজের বিরুদ্ধে কঠোর অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে একটি নতুন ও বিপজ্জনক মোড় সৃষ্টি করেছে। এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ওপর নতুন করে মারাত্মক চাপ তৈরি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর পাল্টাপাল্টি বিমান হামলা এবং উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার এই ঘোষণা আসে। মধ্যস্থতাকারীদের যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা সত্ত্বেও উভয় পক্ষ সোমবার নতুন করে হামলা চালিয়েছে, যার ধারাবাহিকতায় টানা দশ দিনের মতো ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
সৌদি আরব এতদিন হরমুজ প্রণালির বাইরে লোহিত সাগর দিয়ে তাদের কিছু তেল ও অন্যান্য রপ্তানি পণ্য বিকল্প উপায়ে পাঠাতে সক্ষম হয়েছিল। তবে হুথিরা যদি বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে সৌদি জাহাজ চলাচলে এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করে, তবে তা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে। হুথির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন যে ইয়েমেনের ওপর ‘চলতি সৌদি অবরোধের’ জবাবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, এই বিবৃতির মূল লক্ষ্য অভ্যন্তরীণ দর্শক হলেও মূলত হুথিদের এই কর্মকাণ্ড সরাসরি ইরানের কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গেই জড়িত।
এদিকে কূটনৈতিক ফ্রন্টে কিছু আলোচনা চললেও যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে দৃশ্যমান কোনো বড় অগ্রগতি দেখা যায়নি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন যে ওয়াশিংটন কূটনৈতিক আলোচনার দরজা খোলা রাখলেও ইরানের আচরণের পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত তাদের অবস্থানেও কোনো পরিবর্তন আসবে না। অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে উত্তেজনা হ্রাসের নতুন কিছু প্রস্তাব পাওয়া গেছে। হরমুজ প্রণালি ও আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতির এই অবনতির ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
মন্তব্য করুন