শ্রীলঙ্কার মাটিতে প্রথম টেস্টে ১৬৫ রানের বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিলেও স্বস্তিতে নেই ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। ব্যাটে-বলে দলের বাকিরা দুর্দান্ত পারফর্ম করলেও এক ক্রিকেটারের হতাশাজনক পারফরম্যান্স কিছুটা চিন্তায় রেখেছে কোচ গৌতম গম্ভীর ও অধিনায়ক শুভমন গিলকে। গল টেস্টের সেই জয়ের আনন্দ ছাপিয়ে এখন জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে কলম্বোয় হতে চলা দ্বিতীয় টেস্টের একাদশ নিয়ে, যেখানে একাদশে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
মূলত স্পিন সহায়ক উইকেটেও দলের স্পিন আক্রমণকে আশানুরূপ ভরসা দিতে পারেননি রিস্ট স্পিনার কুলদীপ যাদব। যেখানে মানভ সুতার এবং রবীন্দ্র জাডেজার মতো বোলাররা প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছেন, সেখানে কুলদীপের বোলিং ছিল অনেকটাই বিবর্ণ। দুই ইনিংস মিলিয়ে ২৫ ওভার বল করে ১০৩ রান খরচ করেও তিনি ঝুলিতে পুরেছেন মাত্র ১টি উইকেট, ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন চারের বেশি। গেম প্ল্যানে এই ব্যর্থতাই কোচ গৌতম গম্ভীর ও অধিনায়ক শুভমন গিলের মনঃপূত হয়নি।
কলম্বোর পরবর্তী ম্যাচে কুলদীপের বদলে একাদশে সুযোগ পেয়ে ইতিহাস গড়তে পারেন মধ্যপ্রদেশের অলরাউন্ডার সারাংশ জৈন। ৩৩ বছর বয়সে এসে ভারতের টেস্ট দলে তাঁর অভিষেক হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। লঙ্কান লাইনআপে বেশ কয়েকজন ডানহাতি ব্যাটার থাকায় মানভ সুতার ও রবীন্দ্র জাডেজার মতো বাঁহাতি স্পিনারদের পাশাপাশি সারাংশের ডানহাতি অফস্পিন কৌশলগতভাবে দলের জন্য অনেক বেশি কার্যকর প্রমাণিত হতে পারে।
ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের পারফরম্যান্সের সুবাদেই দেরিতে হলেও জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়ছেন সারাংশ। প্রথম শ্রেণির ৫৪ ম্যাচে ২২২৩ রানের পাশাপাশি তিনি শিকার করেছেন ১৮৮টি উইকেট। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক সাফল্যের ধারা বজায় রেখে গত রঞ্জি ট্রফিতে ৫১৮ রান ও ৩০ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি দলীপ ট্রফিতেও দুর্দান্ত পারফর্ম করে প্রতিযোগিতার সেরা হয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি ভারত এ দলের হয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়েও বল ও ব্যাটে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ রেখেছেন এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। কলম্বোর মাঠে তাঁর অভিষেক হলে ১৯৯৮ সালে রবিন সিংহের পর ভারতের হয়ে কোনো ক্রিকেটারের ৩৩ বছর বয়সে টেস্ট ক্যাপ পরার এক নতুন অধ্যায় রচিত হবে।
মন্তব্য করুন