যুদ্ধের সূত্রপাত হওয়ার পর থেকেই বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেনি। নতুন প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে বর্তমান সময়ে এই কৌশলগত নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল এক লাফে নেমে এসেছে মাত্র বিশ শতাংশে। অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে এই রুটে জাহাজ চলাচল প্রায় আশঙ্কাজনক হারে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস বা ইউকেএমটিও-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ১০৩টি জাহাজ প্রবেশ করেছে এবং ৮৯টি জাহাজ নিরাপদে বের হতে পেরেছে। অথচ যুদ্ধের আগের স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে প্রতি সাত দিনে যে পরিমাণ জাহাজ এই পথ ব্যবহার করে চলাচল করত, বর্তমান পরিসংখ্যান তার মোটের ওপর মাত্র এক-পঞ্চমাংশ।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্কৃক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর স্বাধীন চলাচলে নানা ধরনের বাধা সৃষ্টির কারণেই মূলত পরিস্থিতি এমন অনিশ্চিত রয়ে গেছে। এই বাধাগুলোর মধ্যে রয়েছে জাহাজের আকাশসীমায় ড্রোন উড়িয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করা, রেডিও যোগাযোগের মাধ্যমে মাঝপথে জাহাজগুলোকে সতর্ক করা কিংবা থামানোর চেষ্টা করা এবং গোটা নৌপথজুড়ে গোপন মাইন থাকার মারাত্মক ঝুঁকি। এই রুটে চলাচলকারী যেসব জাহাজের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি কমেছে, তার বড় একটি অংশ অর্থাৎ প্রায় পঁয়তাল্লিশ শতাংশই ছিল মূল্যবান তেলবাহী ট্যাংকার।
ইউকেএমটিও-এর সতর্কবার্তায় আরও জানানো হয়েছে যে হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশে অবস্থিত ওমানের উপকূলসংলগ্ন নৌপথটি এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে গত ৬ জুলাইয়ের পর থেকে এই নৌপথে যে ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইল হামলার ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে, তার মধ্যে এক অভাবনীয় ১৬টি ঘটনাই ঘটেছে কেবল এই নির্দিষ্ট ওমান উপকূলীয় এলাকায়।
মন্তব্য করুন