মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাঝে দক্ষিণ লেবাননের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহাসিক উপকূলীয় শহর টাইর (Tyre)-এর বাসিন্দাদের জরুরি ভিত্তিতে এবং অবিলম্বে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এই শহরটির খ্রিস্টান অধ্যুষিত আবাসিক এলাকা এবং এর আশপাশে অবস্থিত ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরগুলোকেও এই বাধ্যতামূলক উচ্ছেদ নির্দেশনার আওতায় রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) আইডিএফের আরবি ভাষার আনুষ্ঠানিক মুখপাত্র কর্নেল আভিখাই আদরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) এ মানচিত্রসহ প্রকাশিত এক জরুরি বার্তায় এই নির্দেশ জারি করেন। বার্তায় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, টাইর শহরের চিহ্নিত লাল জোনের বাসিন্দাদের নিজেদের জীবন রক্ষার্থে দ্রুত ঘরবাড়ি ছেড়ে উত্তর দিকে সরে যেতে হবে এবং জাহরানি নদীর উত্তরের নিরাপদ অঞ্চলগুলোতে গিয়ে আশ্রয় নিতে হবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই চাঞ্চল্যকর খবরটি নিশ্চিত করেছে।
ইসরাইলি সামরিক মুখপাত্র আভিখাই আদরাই তার পোস্টে দাবি করেন, "লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সক্রিয় সদস্য, তাদের গোপন আস্তানা ও সামরিক সংশ্লিষ্ট স্থাপনার কাছাকাছি সাধারণ মানুষের অবস্থান করা এই মুহূর্তে জীবনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক। হিজবুল্লাহ নিজেদের সামরিক কাজে ব্যবহার করছে টাইর শহরের এমন যেকোনো আবাসিক বা বাণিজ্যিক ভবনকে আইডিএফের বিমান বাহিনী লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে যাচ্ছে।" মূলত সাধারণ নাগরিকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখতেই এই আগাম সতর্কতা বলে দাবি ইসরাইলের।
এদিকে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরাইলি এই উচ্ছেদ আদেশের পরপরই মঙ্গলবার সকাল থেকে টাইর জেলার মানসুরি এবং মাজদাল জুন এলাকার উপকণ্ঠে ব্যাপক ও ভারী মাত্রায় আর্টিলারি গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। কামানের গোলার বিকট শব্দে পুরো সীমান্ত অঞ্চল কেঁপে ওঠে। তবে সীমান্তবর্তী এই তাজা গোলাবর্ষণের বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে আইডিএফের তেল আবিব সদর দপ্তর থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য (World Heritage Site) হিসেবে স্বীকৃত এই ঐতিহাসিক টাইর শহরে ইসরাইলি বাহিনীর এই আকস্মিক ও বড় ধরনের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ স্থানীয় লেবানিজ নাগরিক এবং সেখানে আশ্রয় নেওয়া হাজারো শরণার্থীর মধ্যে নতুন করে চরম আতঙ্ক ও তীব্র উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আদেশের পর দক্ষিণ লেবাননের এই প্রধান শহরটিতে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের স্থল বা বিমান হামলা শুরু করতে পারে ইসরাইল।
মন্তব্য করুন