কিশোর-কিশোরীদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও একটি কঠোর ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা। এখন থেকে কোনো কিশোর ব্যবহারকারী মেটার এআই চ্যাটবটের সঙ্গে কথোপকথন করার সময় যদি আত্মহত্যা বা আত্মক্ষতির কোনো ইঙ্গিত দেয়, তবে সেই বিষয়টি আর কেবল চ্যাটের গোপন গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। নতুন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি মানব পর্যালোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি যাচাই করে সরাসরি অভিভাবকদের সতর্কবার্তা পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্ভাব্য যেকোনো বড় ধরনের ঝুঁকি এড়াতে সামান্য সন্দেহের ক্ষেত্রেও এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে, যার ফলে কিছু ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় অ্যালার্ট যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও কিশোরদের সুরক্ষাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার ইনস্টাগ্রামে প্যারেন্টাল সুপারভিশন বা অভিভাবকীয় তদারকি ব্যবহারকারী পরিবারগুলোর জন্য এই সুরক্ষা ফিচারটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। মেটার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষের দিকে এই সেবাটি বিশ্বের অন্যান্য দেশের ব্যবহারকারীদের জন্যও উন্মুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে অভিভাবকেরা কেবল সন্তানের ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের গতিবিধি নয়, বরং গত সাত দিনে মেটা এআই চ্যাটবটের সঙ্গে সন্তানের হওয়া কথোপকথনের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কেও সম্যক ধারণা লাভ করতে পারবেন। এছাড়া কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য আগে থেকেই চালু থাকা সীমিত কনটেন্ট ব্যবস্থার পরিধি আরও বাড়িয়ে এখন তা মেটা এআই চ্যাটের ক্ষেত্রেও কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে, যাতে চ্যাটবটটি কোনো সংবেদনশীল বা অনুপযুক্ত অনুরোধের জবাবে আরও বেশি নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ প্রতিক্রিয়া জানায়।
মেটার পক্ষ থেকে আরও পরিষ্কার করা হয়েছে যে, কেবল কিশোর ব্যবহারকারীই নয়, বরং যেকোনো বয়সের ব্যবহারকারীর কথোপকথনেই যদি তাৎক্ষণিক আত্মহানির চরম ঝুঁকি শনাক্ত করা হয়, তবে প্রয়োজন সাপেক্ষে তা সরাসরি জরুরি সহায়তা বা হটলাইন সেবার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এর আগে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের সাধারণ ফিডে ঝুঁকিপূর্ণ পোস্ট বা কনটেন্ট শনাক্ত করার ক্ষেত্রে যে ধরনের প্রম্পট বা সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হতো, বর্তমানে ঠিক একই ধরনের উন্নত প্রটেকশন মেটা এআই চ্যাটেও যুক্ত করা হলো। উঠতি বয়সি ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সাইবার বুলিং বা বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে মেটার এই বহুমুখী উদ্যোগ ডিজিটাল বিশ্বে অভিভাবকদের স্বস্তি অনেকটা বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন