বর্তমান সময়ে অচেনা রাস্তাঘাট কিংবা কোনো নতুন গন্তব্যে পৌঁছাতে গুগল ম্যাপস আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম বিশ্বস্ত ও অপরিহার্য অ্যাপে পরিণত হয়েছে। তবে মাঝেমধ্যেই দেখা যায়, ডিজিটাল ম্যাপে প্রদর্শিত আপনার ডিজিটাল অবস্থানটি বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। আসলে গুগল ম্যাপস আপনার বর্তমান অবস্থান কতটা নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে পেরেছে, তা খুব সহজেই স্ক্রিনে ভেসে ওঠা একটি বিশেষ চিহ্ন দেখে বুঝে নেওয়া সম্ভব।
গুগল ম্যাপস ওপেন করলে ব্যবহারকারীর নিজস্ব অবস্থান একটি উজ্জ্বল নীল বিন্দু বা ‘ব্লু ডট’ (Blue Dot) দিয়ে নির্দেশ করা হয়। এই নীল বিন্দুর ঠিক চারপাশে যে হালকা নীল রঙের বৃত্তটি দেখা যায়, মূলত সেটিই অবস্থান শনাক্তকরণের নির্ভুলতার মাত্রা বা পরিধি প্রকাশ করে থাকে।
যদি আপনার স্ক্রিনে থাকা নীল বিন্দুর চারপাশের এই বৃত্তটি আকারে বেশ ছোট হয়, তবে নিশ্চিত থাকতে হবে যে অ্যাপটি আপনার অবস্থান প্রায় নিখুঁত ও সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে পেরেছে। পক্ষান্তরে, বৃত্তটির আকার যদি বড় হয়, তবে বুঝতে হবে গুগল ম্যাপস আপনার সুনির্দিষ্ট বা এক্সাক্ট লোকেশন সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। এই পরিস্থিতিতে আপনি ওই বড় নীল বৃত্তের ভেতরের যেকোনো একটি বিন্দুতে অবস্থান করছেন বলে ধরে নেয় অ্যাপটি। প্রযুক্তিগত দিক থেকে এটি কোনো সফটওয়্যারজনিত ত্রুটি নয়; বরং জিপিএস, ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক এবং মোবাইল টাওয়ার থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গুগল ম্যাপসের কনফিডেন্স লেভেল বা নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টিই এই বৃত্তের বড়-ছোট হওয়ার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়।
সাধারণত ভবনের অন্দরে, ভূগর্ভস্থ পার্কিংয়ে বা চারপাশের চারপাশঘেরা উঁচু দালানকোঠার কারণে জিপিএস স্যাটেলাইটের সিগন্যাল সঠিকভাবে স্মার্টফোনে পৌঁছাতে পারে না। ফলে ম্যাপে বড় আকারের নীল বৃত্ত দেখা দেওয়ার প্রবণতা বাড়ে। তবে কয়েকটি সহজ কৌশল অবলম্বন করলেই ম্যাপের অবস্থান শনাক্তকরণের এই নির্ভুলতা অনেকটাই বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব।
প্রথমত, কোনো নির্দিষ্ট নেটওয়ার্কে সংযুক্ত না থাকলেও আপনার ফোনের ওয়াই-ফাই সবসময় অন বা চালু রাখতে পারেন। এতে আশপাশের ওয়াই-ফাই রাউটারের সিগন্যাল কাজে লাগিয়ে ম্যাপ আরও নিখুঁত অবস্থান বের করতে পারে। দ্বিতীয়ত, ফোনের কম্পাস ত্রুটিপূর্ণ থাকলে তা ক্যালিব্রেট করা জরুরি। এর জন্য ফোনটি হাতে নিয়ে ইংরেজি ‘৮’ (Figure Eight) আকৃতিতে কয়েকবার শূন্যে ঘুরিয়ে নিলে কম্পাস পুনরায় সঠিকভাবে ক্যালিব্রেট হয়ে যায়। এছাড়া সম্ভব হলে চারপাশঘেরা ছাদ বা উঁচু ভবন থেকে সরে এসে খোলা আকাশের নিচে বা উন্মুক্ত স্থানে দাঁড়ালে ফোন খুব সহজেই শক্তিশালী জিপিএস স্যাটেলাইট সিগন্যাল লুফে নিতে পারে।
ফোনের কম্পাস ঠিকমতো ক্যালিব্রেট করা থাকলে এবং জিপিএস সিগন্যাল শক্তিশালী হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই নীল বৃত্তটি ছোট হয়ে আসবে, যা নিশ্চিত করে যে গুগল ম্যাপস এখন আপনার সঠিক অবস্থানটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছে।
মন্তব্য করুন