চ্যাটজিপিটির সাথে গল্প করছেন? সাবধান! যে ৫টি তথ্য দিলে পড়তে পারেন চরম ঝুঁকিতে। চ্যাটজিপিটি বা এআই চ্যাটবট ব্যবহারের সময় আপনার ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য কি সুরক্ষিত? জানুন এমন ৫টি বিষয় যা কখনোই এআই-এর সাথে শেয়ার করা উচিত নয় এবং কিভাবে নিজের তথ্য নিরাপদ রাখবেন।
বর্তমান বিশ্বে এআই চ্যাটবট বা চ্যাটজিপিটির জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। প্রতিদিন প্রায় ২.৫ বিলিয়ন প্রম্পটের উত্তর দিচ্ছে এই এআই। মানুষের ব্যবহারের ধরন এতটাই বদলেছে যে, এখন প্রতি ৬ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ১ জন এবং তরুণদের প্রতি ৪ জনে ১ জন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শের জন্য এআই-এর ওপর নির্ভর করছেন।
কিন্তু সার্চ ইঞ্জিনের মতো মনে হলেও এআই-এর সাথে কথোপকথন সবসময় নিরাপদ নয়। যেহেতু আপনার দেওয়া তথ্য থেকে এআই নিজে শিক্ষা গ্রহণ করে এবং অনেক ক্ষেত্রে মানুষের মাধ্যমে চ্যাট হিস্ট্রি যাচাই করা হয়, তাই ৫টি বিষয়ে তথ্য শেয়ার করা আপনার জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে।
যে ৫টি তথ্য চ্যাটজিপিটিকে কখনোই বলবেন না:
১. পাসওয়ার্ড ও লগ-ইন ডিটেইলস: আপনার কোনো অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড, পিন (PIN) বা টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন কোড ভুলেও চ্যাটবটে দেবেন না। এতে হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
২. ব্যক্তিগত পরিচয় (PII): পূর্ণ নাম, বাসার ঠিকানা, ফোন নম্বর বা জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। এই তথ্যগুলো ডাটাবেসে জমা হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।
৩. ব্যাংকিং ও আর্থিক তথ্য: ক্রেডিট কার্ড নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ইনকাম ট্যাক্স ফাইলের মতো সংবেদনশীল তথ্য এআই-কে দেবেন না। আর্থিক লেনদেনের স্ক্রিনশট শেয়ার করাও চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
৪. অফিসিয়াল বা পেশাগত গোপন নথি: কোম্পানির প্রজেক্ট প্ল্যান, সোর্স কোড বা ক্লায়েন্ট লিস্ট চ্যাটজিপিটিতে পেস্ট করবেন না। স্যামসাংয়ের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে তাদের কর্মীদের জন্য এই বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
৫. গভীর ব্যক্তিগত রহস্য: আপনার এমন কোনো ব্যক্তিগত বা সামাজিক গোপনীয় বিষয় যা ফাঁস হলে সম্মানহানি হতে পারে, তা এআই-এর সাথে শেয়ার করবেন না। মনে রাখবেন, এআই আপনার ‘বন্ধু’ মনে হলেও এটি একটি ক্লাউড-ভিত্তিক সফটওয়্যার মাত্র।
নিরাপদ থাকার টিপস: আপনি যদি চান আপনার তথ্য এআই-এর প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত না হোক, তবে সেটিংস থেকে “Chat History & Training” অপশনটি বন্ধ করে দিন।