দীর্ঘ আইনি জটিলতা ও পর্ষদ সভা স্থগিত থাকার পর অবশেষে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটি ৬৯৪ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে। এই মুনাফার বিপরীতে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৪৭.৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ (প্রতি শেয়ারে ৪ টাকা ৭৫ পয়সা) ঘোষণা করা হয়েছে।
লভ্যাংশ ও রেকর্ড তারিখ: ঘোষিত লভ্যাংশ বাবদ মোট ২১২ কোটি টাকা বিতরণ করা হবে। লভ্যাংশ পাওয়ার জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ আগস্ট। অর্থাৎ, ওই দিন যেসব শেয়ারহোল্ডারদের হাতে কোম্পানিটির শেয়ার থাকবে, তারাই লভ্যাংশ প্রাপ্তির যোগ্য হবেন। লভ্যাংশের হিস্যা নিম্নরূপ:
উদ্যোক্তা পরিচালক: ৬৪ কোটি টাকা (৩০% শেয়ারের বিপরীতে)
বিদেশি বিনিয়োগকারী: ৫৮ কোটি টাকা (২৭% শেয়ারের বিপরীতে)
প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী: ৫৪ কোটি টাকা (২৫.৫% শেয়ারের বিপরীতে)
ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারী: ৩৬ কোটি টাকা (১৭% শেয়ারের বিপরীতে)
প্রেক্ষাপট ও আইনি জটিলতা: দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর্ষদ সভা না হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির আর্থিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অন্ধকারে ছিলেন। বিশেষ করে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের (AIM) তালিকাভুক্তি ধরে রাখতে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সম্মতিতে অবশেষে এই পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হলো। স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট ও আইনি লড়াইয়ের কারণে কোম্পানিটির লেনদেন লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। তালিকাচ্যুতি ঠেকাতে এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের চাপে বিএসইসি কোম্পানিটিকে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের এই বিশেষ অনুমতি প্রদান করে।
বাজার প্রতিক্রিয়া: লভ্যাংশ ঘোষণার পর আজ বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (DSE) কোম্পানিটির শেয়ারের দর প্রায় আড়াই শতাংশ কমে ১৪২ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে শেয়ারের দরপতন হলেও লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করছে বেক্সিমকো ফার্মা, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোম্পানিটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহের প্রমাণ দেয়।
মন্তব্য করুন