দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম রেকর্ড সময়ে সম্পন্ন হলেও বর্তমানে উচ্চ আদালতে এসে এর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কিছুটা থমকে গেছে। বিচারিক আদালতে মাত্র কয়েক কার্যদিবসের মধ্যে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হলেও এখনো হাইকোর্টে শুরু হয়নি ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি।
চলতি বছরের ১৯ মে পল্লবীর পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করা হয়। এই নৃশংস ঘটনার পর তীব্র জনরোষের মুখে মাত্র ৪ দিনে চার্জশিট দাখিল এবং মাত্র ৫ কার্যদিবসের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে গত ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। রায়ের মাত্র দুই দিনের মাথায় গত ৯ জুন মামলার ৭২ পৃষ্ঠার নথি অনুমোদনের জন্য উচ্চ আদালতে পাঠানো হয় এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুকও প্রস্তুত করা হয়।
তবে হাইকোর্টে শুনানির ক্ষেত্রে এই বিরতির ব্যাখ্যা দিয়ে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা (অ্যাটর্নি জেনারেল) ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, আইনগতভাবে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের রায়ের বিরুদ্ধে ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করার যে আইনি অধিকার রয়েছে, সেই সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার জন্যই মূলত অপেক্ষা করতে হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ২৮ ধারা অনুযায়ী আসামিদের আপিল করার সুযোগ নিশ্চিত করতেই এই দুই মাস সময় নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে দণ্ডপ্রাপ্তদের দুটি জেল আপিল মঞ্জুর হয়েছে এবং মামলাটি শুনানির তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।
বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে অবকাশকালীন ছুটি চলছে। তবে আগামী ২৫ অক্টোবর অবকাশকালীন ছুটি শেষে হাইকোর্ট খোলার পর ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যকার কার্যদিবসে মামলাটির আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানি সম্পন্ন হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি জানান, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় গঠিত বিশেষ বেঞ্চের মাধ্যমে এর মধ্যে চাঞ্চল্যকর বেশ কিছু মামলার ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ২৫ অক্টোবর আদালত খোলার পর রামিসার মামলাটিও সিরিয়ালে শুনানির জন্য আসবে এবং চলতি বছরের মধ্যেই বিচার প্রক্রিয়া চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন