আসন্ন রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। আগামী বছরের শুরুতে সম্ভাব্য এই নির্বাচনকে টার্গেট করে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারের নির্বাচনে মূল লড়াই মূলত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে গত সংসদ নির্বাচনে ভালো ফলাফলের পর জামায়াত এবার নগরপিতার আসনটি নিজেদের দখলে নিতে কোমর বেঁধে নেমেছে।
বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এবার মনোনয়ন নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দলটির অন্তত হাফ ডজন প্রভাবশালী নেতা মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নের জন্য লবিং ও মাঠপর্যায়ে তৎপরতা চালাচ্ছেন। এই তালিকায় রয়েছেন—বিএনপির কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ সম্পাদক এবং সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও রাসিকের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, মহানগর বিএনপির সহসভাপতি ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন, সহসভাপতি ওয়ালিউল হক রানা এবং রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত। প্রার্থীরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে, বিএনপি ও মূলধারার দলগুলোর বিপরীতে বেশ আগেভাগেই একক প্রার্থী চূড়ান্ত করে মাঠে নেমেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যিনি গত সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিলেন। জামায়াত নেতারা বলছেন, বিগত নির্বাচনে তুলনামূলক কম ব্যবধানে হারের অভিজ্ঞতা এবং সংগঠনের বর্ধিত জনপ্রিয়তা তাদের জয় নিয়ে আশাবাদী করে তুলেছে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মোবাশ্বের আলীকে প্রার্থী করা হয়েছে এবং জাতীয় পার্টিসহ (জাপা) অন্যান্য দলগুলোও নিজেদের প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সবমিলিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বহুমুখী প্রচারণায় রাজশাহীর নির্বাচনী হাওয়া এখন বেশ চ চাঙ্গা।
মন্তব্য করুন