টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার সদর, চৈক্ষ্যং, নয়াপাড়া ও কুরুকপাতা ইউনিয়নের নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ফসলি জমিসহ সবজিখেত পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষি অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত চার ইউনিয়নে প্রায় ৪৫৮ হেক্টর কৃষিজমির ফসল নষ্ট হয়েছে।
অতিবৃষ্টি ও ঢলের পানিতে আমন ও আউশ ধানের পাশাপাশি বেগুন, করলা, চিচিঙ্গা, ঢেঁড়শ, শসা, মরিচ ও পেঁপের মতো গুরুত্বপূর্ণ মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক কৃষক ধারদেনা ও ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। হঠাৎ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল হারিয়ে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন এবং নতুন করে চাষাবাদের পুঁজিও তাদের হাতে নেই।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানিয়েছেন, তারা সরকারি প্রণোদনা বা সহজ শর্তে কৃষিঋণের ওপর নির্ভর করছেন। সমবায় সমিতির মাধ্যমে চাষাবাদ করা অনেক ক্ষুদ্র চাষি সরকারি সাহায্য ছাড়া ঘুরে দাঁড়ানো অসম্ভব বলে মনে করছেন।
পরিস্থিতি সম্পর্কে আলীকদম উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সোহেল রানা জানান, গত ৫ জুলাই থেকে অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল কৃষিখাতে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের সবজির বীজ, সার এবং প্রয়োজনীয় প্রণোদনা সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ পরিমাণ নিরূপণে মাঠ পর্যায়ে কৃষি অধিদপ্তরের কাজ চলছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এই প্রান্তিক চাষিদের দ্রুত সহযোগিতার আওতায় আনা গেলে তারা পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন।
মন্তব্য করুন