ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেছে কংগ্রেস ও বিরোধী দলগুলো। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিল্লি থেকে কলকাতা, পাটনা থেকে গুয়াহাটি একাধিক শহরে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও আটকের ঘটনা ঘটে। নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ সংক্রান্ত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পরই মূলত এই রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের অন্য দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী গত ১০ মাসে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধন ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর বৃহস্পতিবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেন এবং নির্বাচন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরই ধারাবাহিকতায় দেশজুড়ে জেলা ও রাজ্য পর্যায়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভের ডাক দেয় কংগ্রেস।
শুক্রবার রাজধানী দিল্লিতে কংগ্রেস ও যুব কংগ্রেস কর্মীরা মিছিল নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করে। পাটনায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে জলকামান ব্যবহার করতে হয়। এছাড়া কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের অফিস অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল করেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতাকর্মীরা। আসামের গুয়াহাটিতেও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈসহ অনেককে আটক করা হয়।
এদিকে নির্বাচন কমিশন এবং ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বিরোধীদের এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত সবসময় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই নেওয়া হয় এবং মতপার্থক্য থাকা অস্বাভাবিক নয়। তবে এই বিতর্ক ও রাজনৈতিক উত্তাপ ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে এখন অন্যতম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
মন্তব্য করুন