জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন নেত্রী ও যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট না থাকা, জামায়াতের ওপর নির্ভরশীলতা, নারীবিরোধী রক্ষণশীল রাজনীতির সঙ্গে দলের অবস্থান মিলে যাওয়া এবং কাউন্সিল ছাড়াই কমিটি পুনর্গঠনের প্রতিবাদে তিনি দল ছেড়েছেন। তবে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তরুণদের নিয়ে নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন নেত্রী ও যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। দলটির রাজনৈতিক অবস্থান, জামায়াতের সঙ্গে জোট এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি।
পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে সামান্তা শারমিন বলেছেন, নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট না থাকায় এনসিপি ক্রমেই জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে। গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের এই দলকে এখন বিভিন্ন ইস্যুতে জামায়াতের জন্য প্রতিক্রিয়ামূলক ও সহায়ক ভূমিকা পালন করতে হচ্ছে। বড় একটি রাজনৈতিক দলের লেজুড় হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত এনসিপির স্বতন্ত্র রাজনৈতিক সম্ভাবনাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে মনে করেন তিনি।
এ ছাড়া দলের রাজনৈতিক ভূমিকা নারীবিরোধী রক্ষণশীল প্রবণতার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সামান্তা। তাঁর মতে, কাউন্সিল ছাড়াই দলের কমিটি পুনর্গঠন করাও সাংগঠনিক গণতন্ত্রের পরিপন্থী। এসব বিষয়ে বারবার পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানালেও দল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে গতিপথ পরিবর্তনের আগ্রহ দেখা যায়নি। ফলে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে সামান্তা শারমিন বলেন, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে হোয়াটসঅ্যাপে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। পাশাপাশি দলের গ্রুপেও সবাইকে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে গঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র ছিলেন সামান্তা শারমিন। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশের সময় তিনি দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পান। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার পর থেকে দলীয় কার্যক্রমে অনেকটা নিষ্ক্রিয় ছিলেন তিনি। সর্বশেষ ২৩ অক্টোবর পুনর্গঠিত কমিটিতে তাঁকে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর দুই সপ্তাহের মধ্যেই দল ছাড়ার ঘোষণা দিলেন তিনি।
এনসিপি ছাড়লেও রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেননি সামান্তা শারমিন। বরং তরুণদের নিয়ে নতুন রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন তিনি। তাঁর মতে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর তরুণদের ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি রাজনৈতিক শক্তি গড়ে উঠবে, যারা পুরোনো ক্ষমতাকাঠামোর পুনরাবৃত্তি না করে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণে ভূমিকা রাখবে।
সামান্তা মনে করেন, গণতন্ত্র, জাতীয় সার্বভৌমত্ব, নারীর সমান অংশগ্রহণ, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও জাতীয় স্বার্থের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছে। তরুণদের এমন একটি ঐক্য গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ভিন্নমত ও মতাদর্শের পার্থক্য থাকলেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অভিন্ন লক্ষ্য অক্ষুণ্ন থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রাখলেও বাংলাদেশের স্বার্থের ঊর্ধ্বে কোনো বিদেশি শক্তির অবস্থান থাকা উচিত নয়। অতীতের কোনো রাজনৈতিক দলের পুনরাবৃত্তি নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্মাণের লক্ষ্যেই নতুন রাজনৈতিক প্রচেষ্টা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
এই উদ্যোগে আগ্রহী ব্যক্তিদের সঙ্গে বিস্তারিত মতবিনিময়ের আহ্বান জানিয়েছেন সামান্তা। তাঁর ভাষ্য, তরুণদের সঙ্গে নিয়েই তিনি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রকল্প এগিয়ে নিতে চান।