সাংহাইয়ে পুরস্কৃত হওয়ার পর এবার পোল্যান্ড ও কায়রো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে জায়গা করে নিল ইশতিয়াক আহমেদ জিহাদের সিনেমা ‘সাঁকোটা দুলছে’।
তরুণ দূরদর্শী চলচ্চিত্র নির্মাতা ইশতিয়াক আহমেদ জিহাদের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সাঁকোটা দুলছে’ (ইংরেজি শিরোনাম: দ্য ব্লাইন্ড গার্ল অ্যান্ড অ্যান এলিফ্যান্ট) বিশ্বমঞ্চে একের পর এক সাফল্য অর্জন করে চলেছে। গত জুন মাসে মর্যাদাপূর্ণ সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়ে শুভ সূচনা এবং সম্মানজনক পুরস্কার জিতে নেওয়ার পর এবার একই সঙ্গে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দুটি বড় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশের এই সিনেমাটি। এতে করে বৈশ্বিক চলচ্চিত্রের দরবারে বাংলাদেশের স্বতন্ত্র দৃশ্যভাষা ও গল্প পরিবেশনের দক্ষতা নতুন করে প্রশংসিত হচ্ছে।
চলচ্চিত্রটি পোল্যান্ডের আন্তর্জাতিক উৎসব ‘এনার্গাক্যামেরিমেজ’ এবং মিশরের ৪৭তম কায়রো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অফিসিয়াল সিলেকশন হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। পোল্যান্ডের এনার্গাক্যামেরিমেজ উৎসবে সেরা পরিচালক বিভাগে ইশতিয়াক আহমেদ জিহাদ এবং সেরা চিত্রগ্রাহক বা ডিরেক্টর অব ফটোগ্রাফি হিসেবে সামিউল করিম সুপ্তক যৌথভাবে মনোনয়ন পেয়েছেন। উৎসবটি আগামী ৭ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। অন্যদিকে মিশরের ঐতিহ্যবাহী কায়রো উৎসবে সিনেমাটি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রিটিকস উইক কম্পিটিশন’ বিভাগে। সেখানে ‘শাদি আব্দেল সালাম অ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট ফিল্ম’ এবং ‘ফ্যাদি ফারাগ অ্যাওয়ার্ড-স্পেশাল জুরি প্রাইজ’-এর মতো শীর্ষ দুটি পুরস্কারের জন্য লড়বে বাংলাদেশের এই সিনেমাটি, যা চলবে আগামী ১১ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত।
বিশিষ্ট অভিনেতা মনোজ প্রামাণিকের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘মনপাচিত্র’ এবং জার্মানির ‘মগাদোর ফিল্ম’-এর যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে ‘সাঁকোটা দুলছে’। সাদাকালো ফ্রেমে ধারণকৃত সিনেমাটির দৃশ্য বিন্যাস, আলো-ছায়ার নান্দনিক ব্যবহার, স্থির ও দীর্ঘ শট এবং গ্রামীণ জীবনের প্রতিটি সূক্ষ্ম অনুষঙ্গের প্রতি নিবিড় পর্যবেক্ষণ চলচ্চিত্রটিকে একটি স্বতন্ত্র এবং নান্দনিক দৃশ্যভাষা দান করেছে। এক সঙ্গে ইউরোপ ও আফ্রিকার দুটি আন্তর্জাতিক ও প্রভাবশালী উৎসবে একাধিক বিভাগে সিনেমাটি নির্বাচিত হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তরুণ নির্মাতা ইশতিয়াক।
‘সাঁকোটা দুলছে’ সিনেমার মূল উপজীব্য হলো বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদে বসবাসকারী তিন নারীর জীবনযাপন, তাদের মধ্যকার সুপ্ত স্বপ্ন এবং শৃঙ্খল ভাঙার আকাঙ্ক্ষা। কুসংস্কার, ধর্মীয় রক্ষণশীলতা, কঠোর পুরুষতান্ত্রিক সমাজকাঠামো এবং নানা সামাজিক বিধিনিষেধের ঘেরাটোপের মাঝে কীভাবে তারা নিজেদের মতো করে মুক্ত বাতাসে বাঁচার পথ খোঁজে, তা এই চলচ্চিত্রে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এতে সানজিদা আক্তার স্বর্ণা, তাহমিদা রহমান তৌহিদা, সুমাইয়া আক্তার, মুনসিফ মিম, অশোক বেপারী, পঙ্কজ পালিত ও রবিউস সানিসহ অনেকে অভিনয় করেছেন।
মন্তব্য করুন