প্রতিরক্ষা খাতে বছরে হাজার হাজার কোটি ডলার খরচ করা সত্ত্বেও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে পুরোপুরি সুরক্ষা পাচ্ছে না সৌদি আরব। আমেরিকা ও ইউরোপের সরবরাহ করা অত্যাধুনিক প্যাট্রিয়ট ও থাড আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং ফাইটার জেট বহরে থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়নি। স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সামরিক খাতে ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার খরচ করে বিশ্বেক শীর্ষ ১০ ব্যয়ের দেশের তালিকায় রয়েছে দেশটি। তবে বিশাল ভৌগোলিক বিস্তার এবং তিন দিক থেকে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে রিয়াদকে এক বিশাল ও জটিল সুরক্ষাবলয় সামলাতে হচ্ছে।
পূর্ব দিক থেকে ইরানি বাহিনীর প্ররোচনা, উত্তর দিক থেকে ইরাকের মিলিশিয়া এবং দক্ষিণ দিক থেকে ইয়েমেনের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে হুথিদের লাগাতার আক্রমণ সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দারুণ চাপের মুখে ফেলছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অনুসৃত কৌশলের আদলে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সাথে দূরপাল্লার ড্রোনের সমন্বয় ঘটিয়ে হামলা চালাচ্ছে হুথিরা। রাডারে সহজে ধরা না পড়া এই কম উচ্চতার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং নতুন প্রজন্মের পরিবর্তনশীল গতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ভেদ করছে সৌদির প্রতিরক্ষা বলয়। এছাড়া ইয়েমেনে তেহরানের মদদ ও উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় হুথিদের ব্যবহৃত ‘হাতেম-২’ এবং ‘প্যালেস্টাইন-২’ এর মতো নিখুঁত নিশানা হানতে সক্ষম অস্ত্রগুলোর কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, সৌদির এই সংকটের পেছনে রয়েছে তাদের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর এক বিশাল নেটওয়ার্ক, যা পুরোপুরি সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত দুরূহ। রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার পর দেশটির নাগরিকদের মাঝে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ট সিস্টেম সচল রাখতে হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে হুথিদের সাথে সম্মানজনক সমঝোতায় যাওয়া বা সামরিক সংঘাত বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের ভিশনকে হুমকির মুখে ফেলা উভয় পথেই কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে রয়েছে সৌদি প্রশাসন। আন্তর্জাতিক মহলের সহায়তা এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজা হলেও মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটে এক জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি এখন রিয়াদ।
মন্তব্য করুন