শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অফ লেজেন্ডস ২০২৬-এর ১৩তম ম্যাচে ইন্ডিয়া চ্যাম্পিয়নসের বিরুদ্ধে ৩ রানের এক রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস। স্বল্প পুঁজির এই ম্যাচে এনামুল হক জুনিয়রের বিধ্বংসী ও নিয়ন্ত্রিত স্পিন বোলিংই ম্যাচের চিত্র বদলে দেয়। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪১ রান সংগ্রহ করেছিল বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস। জবাব দিতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৮ রানেই আটকে যায় ইন্ডিয়া চ্যাম্পিয়নস। বাংলাদেশ দলের হয়ে চার ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়ে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন এনামুল হক জুনিয়র।
১৪২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ব্যাকফুটে চলে যায় ভারত। তবে মাঝের ওভারে ইরফান পাঠান এবং ঋষি ধাওয়ান ইনিংস সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু পঞ্চদশ ওভারে এনামুল হক জুনিয়র বোলিংয়ে এসে এক অবিশ্বাস্য মায়াজাল বিস্তার করেন। সেই ওভারের দ্বিতীয় বলে ঋষি ধাওয়ানকে bowled করে সাজঘরে ফেরান তিনি। পরের বলেই অভিজ্ঞ ইরফান পাঠানকে বোল্ড করেন এবং পঞ্চম বলে অভিমান্যু মিথুনকে ক্যাচ বানিয়ে ভারতের মিডল অর্ডার সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেন। মাত্র তিন রানের ব্যবধানে তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে তিনি ভারতের জয় প্রায় অসম্ভব করে তোলেন।
শেষের দিকে পবন নেগি এবং পীযূষ চাওলা চার-ছক্কার ফুলঝুরি ফুটিয়ে ম্যাচটিকে দারুণ এক রোমাঞ্চকর সমাপ্তির দিকে নিয়ে যান। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন ছিল ৯ রান, তবে পেসার আবু জায়েদ অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ওভারটি থেকে মাত্র ৫ রান দেন। বিশেষ করে শেষ বলে চার রানের দরকার থাকলেও নেগিকে মাত্র এক রানে আটকে রেখে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ৩ রানের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। বল হাতে আবু জায়েদ ২টি এবং কামরুল ইসলাম ও রুবেল হোসেন ১টি করে উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের এই স্মরণীয় জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
মন্তব্য করুন