খুলনায় প্রক্সি পরীক্ষা (অন্যের হয়ে পরীক্ষা দেওয়া) দিতে গিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক স্টেনোটাইপিস্ট হাতেনাতে আটক হয়েছেন। আটক হওয়া তৃতীয় শ্রেণির এই কর্মচারীর নাম মো. জাহিদুল ইসলাম সোহাগ। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে পুলিশে সোপর্দ করেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার এবং তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। মন্ত্রণালয়ের আরও অন্তত ২৩ জন নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারীর নানা অপকর্ম ও নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গোপন তদন্ত শুরু হয়েছে।
খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন গণমাধ্যমকে জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আটক সোহাগ প্রক্সিকাণ্ডে আরও একাধিক ব্যক্তির জড়িত থাকার চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। ২০২০ সালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে স্টেনোটাইপিস্ট পদে যোগ দেওয়া সোহাগের সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত শেষে পরিষ্কার হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, এ ঘটনায় কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং প্রশাসনিক ও আইনগত কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
গোয়েন্দা ও মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, একটি শক্তিশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে দেশব্যাপী সরকারি নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও পদায়ন বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। এই চক্রের সদস্যরা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আসা বিভিন্ন অভিযোগ গায়েব করার বিনিময়ে অনৈতিক সুবিধা আদায় করে আসছে। এর আগে গত মাসেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রক্সি পরীক্ষা ও চাকরিতে যোগ দিতে এসে আরও ১০ জন গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। বর্তমানে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও পুলিশের যৌথ তদন্তে এই চক্রের মূল হোতাদের মুখোশ উন্মোচনের কাজ চলছে। মন্ত্রণালয়ের সাধারণ সৎ কর্মচারীরাও এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দুর্নীতিবাজদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন