দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য জারিকৃত নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপনে বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি উচ্চতর গ্রেড বা টাইম স্কেল পাওয়ার বিষয়েও সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত বিধান রাখা হয়েছে। অর্থ বিভাগ থেকে প্রকাশিত ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’-এ কোন শর্তে এবং কীভাবে কর্মচারীরা উচ্চতর গ্রেড পাবেন, তার স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার প্রধান নিয়ম ও শর্তগুলো হলো:
প্রথম উচ্চতর গ্রেড: কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে ৮ বছর পূর্ণ করলে এবং চাকরি সন্তোষজনক হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবম বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাবেন। তবে এটিকে পদোন্নতি হিসেবে গণ্য করা হবে না। এছাড়া যেসব কর্মচারীর ১ জুলাই ২০২৬-এর পূর্বে একই পদে ৮ বছর পূর্ণ হয়েছে কিন্তু ১০ বছর হয়নি, তারাও ১ জুলাই ২০২৬ থেকে এই উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্য হবেন।
দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড: প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর কোনো কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে আরও ৬ বছর সন্তোষজনক চাকরি সম্পন্ন করলে, প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার তারিখ থেকে সপ্তম বছরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে উন্নীত হবেন।
সীমা ও শর্ত: উচ্চতর গ্রেডের এই আর্থিক সুবিধা সর্বোচ্চ বেতনস্কেলের চতুর্থ গ্রেড পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ চতুর্থ গ্রেড বা তার ওপরে থাকা কোনো কর্মচারী এই সুবিধা নিয়ে তৃতীয় গ্রেড বা তার ওপরে বেতন পাবেন না। পুরো চাকরিজীবনে একজন স্থায়ী কর্মচারী একই পদে সর্বমোট দুইবারের বেশি উচ্চতর গ্রেডের এই সুবিধা পাবেন না।
ব্লক পদ ও পদোন্নতিহীন পদের জন্য বিশেষ বিধান: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ঘোষিত ব্লক পদ এবং যেসব পদে পদোন্নতির কোনো সুযোগ নেই, সেগুলোতে কর্মরত কর্মচারীদের জন্য তৃতীয় উচ্চতর গ্রেডের সুযোগ রাখা হয়েছে। তারা প্রথম দুটি উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর দ্বিতীয়টি পাওয়ার তারিখ থেকে ৮ বছর পূর্ণ হলে সন্তোষজনক সাপেক্ষে নবম বছরে তৃতীয় উচ্চতর গ্রেড পাবেন। তবে পুরো চাকরিজীবনে এ ধরনের পদে সর্বোচ্চ তিনবার এই সুবিধা পাওয়া যাবে।
পূর্বের গ্রেড সমন্বয়: কোনো কর্মচারী যদি আগের বেতনকাঠামোর আওতায় ইতিমধ্যে দুই বা ততোধিক সিলেকশন গ্রেড, টাইম স্কেল বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকেন, তবে বর্তমান পদে থাকা অবস্থায় তিনি জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী আর নতুন করে উচ্চতর গ্রেড পাবেন না। তবে ৩০ জুন ২০২৬ বা এর আগে মাত্র একটি উচ্চতর স্কেল পেয়ে থাকলে, পরবর্তী ৬ বছর পূর্ণ সাপেক্ষে তারা দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্য হবেন, যদিও পূর্বের কোনো বকেয়া প্রাপ্য পরিশোধ করা হবে না।
প্রজ্ঞাপনে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এখানে ‘স্বয়ংক্রিয়’ বলতে বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির জটিলতা ছাড়াই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিব কিংবা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে কেবল একটি অফিস আদেশ জারির মাধ্যমেই উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিষয়টি নিষ্পত্তি করাকে বোঝানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন