গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ মোট আটটি সুনির্দিষ্ট দাবিতে আজ শনিবার রাজধানী ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করবে ১১ দলীয় ঐক্য। এই কর্মসূচি সফল করতে লংমার্চের পুরো রুটে থাকা সকল জেলা ও মহানগরী শাখায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, লংমার্চের বহর রংপুর অভিমুখে রওনা হওয়ার আগে আজ সকাল ৭টায় ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউয়ে একটি উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সকাল ৮টার দিকে লংমার্চের মূল বহর যাত্রা শুরু করে নির্ধারিত পথগুলোতে পথসভায় অংশ নেবে। এর মধ্যে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস, টাঙ্গাইলের নগর জালপাই, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, বগুড়ার মাটিডালিস্থ বিমান মোড় এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সবশেষে রংপুরের জিলা স্কুল মাঠে একটি বিশাল সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে এই লংমার্চ কর্মসূচি সমাপ্ত হবে।
এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর আয়োজিত বিরোধী এই জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চে ছয়টি দাবি থাকলেও, এবারের রংপুর লংমার্চে নতুন দুটি দাবি যুক্ত হয়ে মোট আটটি দাবি উত্থাপন করা হচ্ছে। এই আটটি দাবি হলো—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন; জুলাই গণহত্যার বিচার; বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন; নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ; দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন; সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং বহুল প্রত্যাশিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। এই কর্মসূচি উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ সময় জামায়াতের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও মহানগরী পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে কূটনৈতিক চ্যানেলে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ঢাকা-রংপুর লংমার্চকে সফল করতে এবং রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে সংহতি ও অভিবাদন জানাতে লাখ লাখ মানুষ প্রস্তুত রয়েছে। এমনকি নারীরাও রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অংশ নেবেন বলে তাঁরা তথ্য পেয়েছেন এবং লংমার্চের বহরে সহস্রাধিক গাড়ি যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক লংমার্চে যাতে কোনো ধরনের অনভিপ্রেত বাধা সৃষ্টি করা না হয়, সে বিষয়ে সরকার, পুলিশ প্রশাসন, সিভিল প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা ও ট্রাফিকের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। একই সঙ্গে বহরে থাকা নেতাকর্মীদের যেকোনো উসকানিতে পা না দিয়ে সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান জামায়াত সেক্রেটারি। পরবর্তীতে গতকাল বিকেলে মিয়া গোলাম পরওয়ার মানিক মিয়া এভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেন। দেশবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই লংমার্চ একটি ঐতিহাসিক ও সফল কর্মসূচি হিসেবে রূপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করছেন আয়োজকরা।
মন্তব্য করুন