ফুটবল ইতিহাসের দুই কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা এবং লিওনেল মেসির গল্প যেন অদ্ভুতভাবে একই সুতোয় বাঁধা। গত ২২ জুন ২০২৬ সালে ডালাসের সেই এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে যেন ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটল। একদিকে লিওনেল মেসি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পেনাল্টি মিসের রেকর্ড গড়ে ১৯৯৪ সালে ডালাসে ম্যারাডোনার নিষিদ্ধ হওয়ার সেই বেদনার স্মৃতিকে উসকে দিলেন, অন্যদিকে জোড়া গোল করে তিনি স্মরণ করলেন ১৯৮৬ সালের সেই ঐতিহাসিক ২২ জুনকে যেদিন ম্যারাডোনা ‘হ্যান্ড অফ গড’ এবং ‘গোল অফ দ্য সেঞ্চুরি’র মাধ্যমে অমরত্ব পেয়েছিলেন।
মেসির এই জোড়া গোল ছিল যেন ম্যারাডোৃৃনারৃৃ প্রতি এক শৈল্পিক নৈবেদ্য। পেনাল্টি মিসের হতাশা ছাপিয়ে তিনি তার প্রথম গোলের মাধ্যমে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে ১৭ গোল করার অনন্য কীর্তি স্থাপন করেন। ডালাসের যে শহরে ম্যারাডোনার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন একসময় ধূলিসাৎ হয়েছিল, ঠিক সেই শহরেই ৩২ বছর পর তার উত্তরসূরি গড়ে ফেললেন বিপরীতমুখী দুটি রেকর্ড।
মেসির এই অনন্য অর্জনের রাতে যেন ম্যারাডোনার আনন্দ ও বেদনা মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল। একদিকে পেনাল্টি মিসের ব্যর্থতা আর অন্যদিকে রেকর্ডের চূড়ায় ওঠার উল্লাস সব মিলিয়ে ফুটবল বিশ্ব দেখল ম্যারাডোনা ও মেসির অবিশ্বাস্য এক মহাকাব্যিক সংযোগ। ইতিহাসের পাতায় মেসির এই জোড়া গোল এবং রেকর্ড গড়ার দিনটি নিশ্চিতভাবেই ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন