লন্ডনের দ্য ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে পেসার ম্যাট হেনরির অতিমানবীয় বোলিং নৈপুণ্যে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে ২৫৩ রানের বিশাল ব্যবধানে গুঁড়িয়ে দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। ম্যাচের পঞ্চম দিনে জয়ের জন্য রেকর্ড ৪৬৩ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস মাত্র ২০৯ রানেই গুটিয়ে যায়। রোববার খেলা শুরুর মাত্র ৪৮ মিনিটের মধ্যে ইংল্যান্ডের শেষ ৫টি উইকেট তুলে নিয়ে ১-১ ব্যবধানে সিরিজে সমতা টানে কিউইরা। গ্লেন ফিলিপস ও কেন উইলিয়ামসনের জায়গায় দলে আসা হেনরি নিকোলসের জোড়া শতকের পর বল হাতে একাই ইংলিশদের ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেন ম্যাট হেনরি।
লর্ডস টেস্টে পিঠের ব্যথায় ভুগতে থাকা ৩৪ বছর বয়সি ম্যাট হেনরি ওভালে বল হাতে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন। পঞ্চম দিনে ইংল্যান্ডের স্কোর যখন ৫ উইকেটে ১৮২ রান, তখন নিজের এক অবিশ্বাস্য স্পেলে মাত্র ১২ বলের মধ্যে কোনো রান না দিয়েই ৪টি উইকেট তুলে নেন হেনরি। এর মধ্যে তিনি পরপর দুটি ওভারে কোনো রান না দিয়ে ২টি করে উইকেট নেওয়ার (ডাবল-উইকেট মেইডেন) বিরল এক কীর্তি গড়েন।
প্রথম ইনিংসে ৮০ রানে ৫ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯ রানে ৬ উইকেট শিকার করেন হেনরি। ম্যাচে মোট ১০৯ রানে ১১ উইকেট নিয়ে তিনি ক্যারিয়ারের প্রথম ১০ উইকেট শিকারের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টের ইতিহাসে এটিই এখন নিউজিল্যান্ডের কোনো বোলারের সেরা পারফরম্যান্স, যা ১৯৯৪ সালে লর্ডসে ডিয়ন ন্যাশের নেওয়া ১৬৯ রানে ১১ উইকেটের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
চতুর্থ দিন শেষে ৭৫ রানে অপরাজিত থাকা ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জো রুটের ওপরই ভরসা করছিল ইংল্যান্ড। আগের দিনই শচীন টেন্ডুলকারের পর দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ১৪,০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন তিনি। কিন্তু পঞ্চম দিনে নিজের স্কোরে মাত্র ২ রান যোগ করতেই হেনরির বলে এলবিডব্লিউ (lbw) হয়ে সাজঘরে ফেরেন রুট।
রুটের বিদায়ের দুই বল পরেই জোফ্রা আর্চারকে শূন্য রানে বোল্ড করেন হেনরি। প্রথম ইনিংসে ফিফটি করা ম্যাথিউ ফিশারকেও এবার খাতা খোলার আগেই বোল্ড করেন তিনি। ঠিক পরের বলেই নতুন ব্যাটার জশ টাঙ্গুকে স্লিপে ড্যারিল মিচেলের ক্যাচ বানিয়ে গোল্ডেন ডাকের স্বাদ দেন হেনরি। শেষ পর্যন্ত জর্ডান কক্সকে বোল্ড করে ইংল্যান্ডের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন এই ম্যাচজয়ী নায়ক।
লর্ডসে প্রথম টেস্টে ১১৫ রানে জয়ের পর দলের কারফিউ (টিম সান্ধ্য আইন) ভঙ্গ করার দায়ে এই টেস্ট থেকে বাদ পড়েছিলেন নিয়মিত অধিনায়ক বেন স্টোকস এবং পেসার গাস অ্যাটকিনসন। পাঁচ পরিবর্তন এবং ৩ জন ডেব্যুট্যান্ট নিয়ে মাঠে নামা ইংল্যান্ড দল হেনরির তোপে চূড়ান্ত ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। তবে রোববার খেলা শুরুর ঠিক আগে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ECB) কাউন্টি ক্রিকেট থেকে স্টোকস ও অ্যাটকিনসনকে তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত করে যে, আগামী সপ্তাহে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সিরিজের শেষ ও নির্ণায়ক টেস্টে এই দুই তারকা আবারও দলে ফিরছেন।
মন্তব্য করুন