বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ষোলোর আর্জেন্টিনা ও মিশর ম্যাচের রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়েছে কোয়ার্টার ফাইনাল। তবে মাঠের লড়াই ছাপিয়ে এই দুই দলের হাইভোল্টেজ ম্যাচের রেফারিং নিয়ে চলা বিতর্ক এখন ফুটবলপ্রেমীদের প্রধান আলোচনার বিষয়। ম্যাচের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশরীয় শিবির থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছিল, এমনকি ম্যাচটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলেও দাবি করেছিলেন তাদের কোচ ও খেলোয়াড়রা। তবে ফিফা এখন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, ম্যাচ পরিচালনায় কোনো ভুল ছিল না এবং এই অভিযোগগুলোর কোনো ভিত্তি নেই।
ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা ও কিংবদন্তি রেফারি পিয়ারলুইজি কলিনা ইনসাইড ফিফা ডট কমে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। মূলত মিসরের গোল বাতিল এবং শেষ মুহূর্তে তাদের পেনাল্টি না পাওয়ার বিষয়টি নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কলিনা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবহারের নিয়মগুলো ব্যাখ্যা করে জানান যে, গোল হওয়ার আগে কোনো ফাউল শনাক্ত হলে তা গোল হওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেললে ভিএআর তা যাচাই করতে পারে। গোলের দূরত্ব বা সময়ের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই, যদি ফাউলটি স্পষ্ট হয় তবে রেফারি সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেন। সালাহ ও আলভারেজের মধ্যকার সেই বিতর্কিত ঘটনাকেও তিনি ‘স্বাভাবিক ফুটবলীয় স্পর্শ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
কলিনা রেফারিং নিয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা ফুটবলের অংশ হলেও, রেফারির সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা তাদের পরিবারের জন্য হুমকি তৈরি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর রেফারিংয়ে প্রভাব বিস্তারের দাবিকেও তিনি ভিত্তিহীন বলে নাকচ করেছেন। কলিনার মতে, ম্যাচ পরিচালনায় রেফারিরা সবসময় স্বাধীন এবং শতভাগ সততার সাথে সেরা সিদ্ধান্তটি দেওয়ার চেষ্টা করেন। ফিফার এই জোরালো অবস্থানের পর এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘদিনের এই রেফারিং বিতর্ক শেষ পর্যন্ত থামে কি না।
মন্তব্য করুন