ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের আগে আর্জেন্টিনার জার্সি পছন্দ নিয়ে বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনে বেশ শোরগোল পড়েছে। প্রথাগত নীল-সাদা ডোরাকাটা হোম জার্সির বদলে আর্জেন্টিনা ফিফার কাছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নীল রঙের অ্যাওয়ে জার্সি পরে খেলার অনুমতি চেয়েছে, যা এরই মধ্যে ফিফা অনুমোদনও করেছে। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এই সিদ্ধান্ত বেশ চমকপ্রদ, কারণ আর্জেন্টিনার ইতিহাসের বড় বড় পরাজয়গুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই নীল জার্সি।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত দুটি প্রধান কারণ কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রথমত, আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্কৃতিতে ‘কাবালা’ বা কুসংস্কারের গভীর প্রভাব রয়েছে। অদ্ভুত শোনালেও সত্য যে, ঐতিহাসিকভাবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা যে দুটি ম্যাচে জয় পেয়েছে একটি ১৯৮৬ সালের বিখ্যাত কোয়ার্টার ফাইনাল এবং অন্যটি ১৯৯৮ সালের রাউন্ড অব সিক্সটিনের ম্যাচ সে দুইবারই তারা নীল রঙের অ্যাওয়ে জার্সি পরে মাঠে নেমেছিল। আর্জেন্টাইনরা মনে করে, নির্দিষ্ট কোনো জার্সি বা অনুশীলনের অনুষঙ্গ সৌভাগ্য বয়ে আনতে পারে। যদিও ১৯৯০ ও ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের ফাইনালে এই জার্সি পরেই তাদের হারতে হয়েছিল, তবুও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অতীতের সেই সোনালী স্মৃতি ফিরিয়ে আনার লক্ষে তারা এবার এই ‘অপয়া’ জার্সিকে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে বেছে নিয়েছে।
দ্বিতীয় কারণটি পুরোপুরি বাস্তবসম্মত ও প্রশাসনিক। ফিফা সেমিফাইনালের জন্য ইংল্যান্ডকে ‘হোম’ দল হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। যেহেতু আর্জেন্টিনা এবং ইংল্যান্ড উভয় দলের জার্সিতেই সাদার আধিক্য রয়েছে, তাই জার্সি গোলযোগ এড়াতে আর্জেন্টিনা দলের জন্য অ্যাওয়ে কিট পরাটাই নিয়ম অনুযায়ী যুক্তিসঙ্গত ও পেশাদার সিদ্ধান্ত। কুসংস্কারের বিষয়টি আবেগীয় পর্যায়ে থাকলেও, ফিফার জার্সির কোড এবং দুই দলের সাদার আধিক্যজনিত ক্ল্যাশিং এড়াতে এই নীল জার্সি বেছে নেওয়াটা মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও বেশি কৌশলগত হতে পারে।
এখন দেখার বিষয়, বুধবারের এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহামের দলের বিপক্ষে মেসিরা কি তাদের নীল জার্সির সেই ‘ভাগ্য’ ফিরিয়ে আনতে পারেন, নাকি পুরনো হারের স্মৃতিই তাদের তাড়া করে ফেরে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বুধবারের এই সেমিফাইনাল ম্যাচটিই নির্ধারণ করবে কার জার্সিটি ইতিহাসের পাতায় জয়ী হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন