রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক মন্ত্রী ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার দুদকের সহকারী পরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেরদৌস রহমান এই আবেদনটি দাখিল করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত ৮ জুলাই আসামির উপস্থিতিতে এই আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত বছরের ২২ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন রাশেদ খান মেননসহ মোট ২০ জনের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করে। অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো প্রকার নিয়ম-নীতি না মেনে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ১৩ জন প্রার্থীকে অবৈধভাবে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, বিশেষ গভর্নিং কমিটির নিয়োগ দেওয়ার কোনো আইনগত ভিত্তি না থাকা সত্ত্বেও অবৈধভাবে একটি নিয়োগ বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। এছাড়া নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারি নীতিমালা ও স্বচ্ছতার চরম লঙ্ঘন দেখা গেছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়োগ বোর্ডে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কোনো প্রতিনিধি বা বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ শিক্ষক রাখা হয়নি। এমনকি প্রার্থীদের এনটিআরসিএ সনদ থাকার যে বাধ্যতামূলক নিয়ম ছিল, তা-ও তোয়াক্কা করা হয়নি। নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের ভয়াবহ চিত্রটি ধরা পড়েছে পরীক্ষার ফলাফলের ক্ষেত্রেও; যেখানে লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া যোগ্য প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগই দেওয়া হয়নি। এছাড়া নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার আগেই নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্র প্রদান করা হয়েছিল।
এই মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন স্কুলটির সাবেক অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সাবেক সদস্যসচিব অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলমগীর হোসেনসহ গভর্নিং বডির বেশ কয়েকজন সদস্য এবং অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া ১৩ জন শিক্ষক। উল্লেখ্য যে, গত ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট পুলিশ রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন। ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনের ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক হত্যা মামলা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি হিসেবেও মেননের বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সাবেক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা এই রাজনীতিকের বিরুদ্ধে নতুন করে এই দুর্নীতি মামলার আবেদনটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন