শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গেই বাতাসে বাড়তে শুরু করেছে ধুলোবালি ও শুষ্কতার মাত্রা। আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সময়ে বাতাসে দূষণের পরিমাণ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায়, যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাতাসে থাকা সূক্ষ্ম ধূলিকণা খুব সহজেই ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে এবং শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়িয়ে কোষের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে। যদিও নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার এবং ঘরের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি, তবুও শরীরকে ভেতর থেকে সুরক্ষিত রাখতে সঠিক খাদ্যাভ্যাসের কোনো বিকল্প নেই। দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় কিছু পুষ্টিকর খাবার যুক্ত করলেই দূষণের এই মৌসুমেও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অটুট রাখা সম্ভব।
শরীরের স্বাভাবিক কোষ গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ভিটামিন বি নাইন বা ফোলেট অত্যন্ত জরুরি। এই পুষ্টি উপাদানের অভাব পূরণে ডায়েটে নিয়মিত পালং শাক ও মেথি শাক রাখতে পারেন। ডাল কিংবা নানা পদের সবজির সঙ্গে এই পাতাযুক্ত শাকগুলো মিশিয়ে খেলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি লাভ করে। এছাড়া মুগ ও মসুরের মতো বিভিন্ন ধরনের ডাল প্রোটিন এবং ফাইবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ফোলেট সরবরাহ করে। সাধারণ ডাল, খিচুড়ি বা যেকোনো সুস্বাদু পদ হিসেবে ডাল খাওয়া শরীরের স্বাভাবিক কোষের কার্যকারিতা বজায় রাখতে দারুণভাবে সাহায্য করে।
খাদ্যতালিকায় ফোলেট ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে ছোলা ও রাজমা দারুণ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। ভাতের সঙ্গে এক বাটি সুস্বাদু ছোলা বা রাজমা যোগ করলে দৈনন্দিন খাবার অনেক বেশি পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ আমলকী ও পেয়ারা নিয়মিত খাওয়া উচিত। এই ফলগুলোতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিকেলের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। পাশাপাশি গাজরে থাকা বিটা-ক্যারোটিন শরীর সহজেই ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত করতে পারে, যা আমাদের শ্বাসতন্ত্রের আস্তরণ সুস্থ রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মন্তব্য করুন