বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হ্রাসের প্রভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমায় আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্বর্ণের বাজার। সোমবার স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বেড়ে ৪ হাজার ১৪ ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাবে সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিশ্ববাজারে আবারও প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার মার্কিন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের আসন্ন মুদ্রানীতি বৈঠকের আগে স্বর্ণের এই দাম বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেল।
এদিন বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ২৪ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪.৪৯ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগে গত শুক্রবার স্বর্ণের দাম কমে ৩ হাজার ৯৭৫ ডলারে নেমেছিল, যা গত ২০ জুলাইয়ের পর থেকে সর্বনিম্ন। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার মূল্য শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৮.৪০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কিছু বিনিয়োগকারী ৪ হাজার ডলারের মনস্তাত্ত্বিক স্তরটিকে স্বর্ণ কেনার সেরা সুযোগ বা 'বাইং অপরচুনিটি' হিসেবে কাজে লাগিয়েছেন। ঐতিহাসিকভাবে এই মূল্যস্তরটি ভালো সাপোর্ট জুগিয়ে আসায় বাজারে নতুন করে স্বর্ণ কেনার প্রবণতা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া তেলের দাম কমাও মূল্যবান এই ধাতুর বাজারকে বাড়তি সমর্থন জোগাচ্ছে।
তবে সামনে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা থাকায় স্বর্ণের বাজার পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। আগামী ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুদের হার বাড়লে সাধারণত স্বর্ণের মতো নন-ইল্ডিং বা লভ্যাংশহীন সম্পদ ধরে রাখার আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়।
এদিকে, গত সপ্তাহে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের ফিউচার মূল্য প্রায় ২ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১১৪ ডলারে নেমেছে। তেলের এই দরপতন বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমাতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বিনিয়োগকারীরা এখন আগামী ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের অক্টোবর মাসের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচকের (পিসিই) রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন।
অন্যদিকে, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট মার্কেটে রুপার দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৩.৯৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৪৭ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪৩.৪৭ ডলারে নেমেছে।