ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের শেষ বিদায় জানাতে তেহরানে নেমেছে মানুষের ঢল। শোকের এই আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে রাজধানী তেহরান মেট্রো নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেছেন রেকর্ড সংখ্যক মানুষ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রোববার সকাল ৭টা পর্যন্ত মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তেহরান মেট্রোতে ৭০ লাখের বেশি যাত্রীর ট্রিপ রেকর্ড করা হয়েছে।
তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়োজিত জানাজা ও বিদায় অনুষ্ঠানে মানুষের ব্যাপক সমাগমকে কেন্দ্র করে এই জনস্রোত তৈরি হয়। অংশগ্রহণকারীদের ভোগান্তি কমাতে এবং অনুষ্ঠানস্থলে দ্রুত পৌঁছানোর জন্য আয়োজকরা আগে থেকেই সাধারণ মানুষকে মেট্রো রেল ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিলেন। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াত সামলাতে মেট্রো কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হলেও, শোকের এই মুহূর্তে সাধারণ মানুষের শৃঙ্খলা ও অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
রোববার সকাল ৮টায় যখন জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়, তখন পুরো মোসাল্লা প্রাঙ্গণ জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানির ইমামতিতে এই জানাজায় খামেনির পাশাপাশি তাঁর পরিবারের নিহত সদস্যদেরও শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। জানাজার নামাজটি তিন ধাপে সম্পন্ন হয়, যেখানে খামেনির পরিবারের সদস্য সাইয়্যেদে বুশরা হোসেইনি খামেনি, মেসবাহ আল-হোদা বাকেরি, জাহরা হাদ্দাদ আদেল এবং ১৪ মাস বয়সী শিশু জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানির জন্য আলাদাভাবে দোয়া ও প্রার্থনা করা হয়। পুরো তেহরান নগরী এখন শোকের চাদরে ঢাকা। দীর্ঘ বছরের এক অভিভাবককে শেষবার দেখার জন্য মানুষের এই অভূতপূর্ব উপস্থিতি ইরানি ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
মন্তব্য করুন