দেশের বাজারে ফের ঊর্ধ্বমুখী সোনার বাজার। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভরিতে ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়ে স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন গিয়ে ঠেকেছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকায়।
মঙ্গলবার সকালে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশ করা হয় এবং তা ওই দিন সকাল ১০টা থেকেই সারা দেশে কার্যকর করা হয়েছে। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এবং স্থানীয় বাজারে খাঁটি সোনার মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করেই এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে গত ৮ আগস্টেও স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের পাশাপাশি অন্যান্য গ্রেডের স্বর্ণের দামেও পরিবর্তন এসেছে। এখন থেকে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ কিনতে খরচ পড়বে ২ লাখ ২৪ হাজার ৫৯০ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫২২ টাকা। পরবর্তী কোনো নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্যতালিকা কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে বাজুস।
স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের সুবিধার্থে বাজুস জানিয়েছে যে, অলঙ্কারের বর্তমান ডিজাইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট মুজুরি এর সঙ্গে যোগ হতে পারে। তবে স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে যেহেতু ভ্যাট আগে থেকেই যুক্ত থাকে, তাই কোনো অবস্থাতেই ক্রেতাদের কাছ থেকে আলাদা করে কোনো ভ্যাট আদায় করা যাবে না। চলতি বছর জুড়েই দেশের বাজারে স্বর্ণের বাজারে বেশ অস্থিরতা দেখা গেছে। এই নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ১০১ বার সোনার বাজার সমন্বয় করা হলো, যার মধ্যে ৫০ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং সমপরিমাণ ৫০ বার দাম কমানোর পাশাপাশি ১ দফা ভ্যাট সমন্বয়ের ঘটনা ঘটেছে।
মন্তব্য করুন