মুসলিম বিশ্বের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের প্রতিযোগিতা ও বৈরিতার অধ্যায় পেছনে ফেলে নতুন কৌশলগত সমীকরণের সূচনা হয়েছে। শুক্রবার সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেছেন ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’। এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে স্বাক্ষরিত পাকিস্তান-সৌদি কৌশলগত চুক্তির ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠা এই ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা কাঠামোর মূল নীতি হলো—‘এক সদস্যের ওপর হামলাকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা।’ বর্তমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার অনিশ্চয়তা এই তিন দেশকে যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে এসেছে।
অতীতে কুয়ালালামপুর সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সৌদি আরব ও তুরস্কের বিপরীতে পাকিস্তানকে যে জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছিল, ‘মক্কা চুক্তি’র মাধ্যমে সেই বিভাজনের অবসান ঘটেছে। পাকিস্তানের অভিজ্ঞ সামরিক বাহিনী ও পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা, তুরস্কের উন্নত প্রতিরক্ষা শিল্প (ড্রোন, মিসাইল ও নৌযান) এবং সৌদি আরবের বিপুল আর্থিক সক্ষমতা ও কূটনৈতিক প্রভাব এই জোটকে অত্যন্ত শক্তিশালী করে তুলেছে। চুক্তিটির আওতায় যৌথভাবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সাইবার নিরাপত্তা এবং সমন্বিত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ উন্মুক্ত হয়েছে। আদর্শগত ঐক্যের পরিবর্তে বাস্তব প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং যৌথ প্রতিরোধক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই চুক্তি শুধু তিন দেশের ত্রিপক্ষীয় পরিসরে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং ভবিষ্যতে অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোকে যুক্ত করে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোটে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
মন্তব্য করুন