মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অঙ্গনে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই আজ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বৈঠকে বসেছে প্রভাবশালী তিন মুসলিম দেশ—তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানকে নিয়ে গঠিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে তুরস্কের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রী ও সামরিক কর্মকর্তা ইতোমধ্যে সৌদিতে উপস্থিত হয়েছেন। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতা এবং এই সামরিক জোটকে একটি স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়া কতদূর এগোল, তা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কৌশলগত এই বৈঠকে তুরস্কের প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের এবং সেনাপ্রধান জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারওগ্লু। পাশাপাশি পাকিস্তান ও সৌদি আরবের শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারাও এই বৈঠকে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। এবারের এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ঠিক এমন একটি সময়ে এটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকার হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে। ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই মূলত এই নতুন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফলে আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং যৌথ নিরাপত্তা কৌশল জোরদার করার ক্ষেত্রে এই জোট কীভাবে ভূমিকা রাখবে, তার রূপরেখা তৈরি হতে পারে আজকের এই বৈঠকে। এর আগে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, এই যৌথ প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হওয়ার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ছয়টিরও বেশি দেশ গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে জোটের নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পুরোপুরি পোক্ত হওয়ার পরই নতুন সদস্যদের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। রিয়াদের আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক থেকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নতুন কোনো দিকনির্দেশনা আসে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল।