যুক্তরাজ্যের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও লেখক ক্রেইগ মারে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির নেতৃত্ব এবং নৈতিক আদর্শের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তীব্র আন্তর্জাতিক চাপ এবং অস্তিত্বের সংকট মোকাবিলা করার সময়ও খামেনি তার নৈতিক ও আদর্শিক অবস্থান থেকে কখনো বিচ্যুত হননি। ক্রেইগ মারের মতে, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে অনাগ্রহ এবং আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের কারণে খামেনি নীতিনিষ্ঠ নেতৃত্বের এক অনন্য প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।
সাবেক এই কূটনীতিকের ভাষ্যমতে, পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল থাকলেও ইরান চাইলে সহজেই তা তৈরি করতে পারত। তবে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল বিশ্বাস থেকে খামেনি এমন অস্ত্র তৈরি করাকে সঠিক মনে করেননি, যা তার ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধার একটি বড় জায়গা। যুদ্ধের ময়দানেও ইরান স্কুল, হাসপাতাল বা সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করেনি বলে দাবি করেন মারে, এবং তিনি মনে করেন এই নৈতিক শিক্ষার পেছনে খামেনির ভূমিকা ছিল অপরিসীম।
ইসরাইলের সম্প্রসারণবাদী নীতি ও ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার বিরুদ্ধে ইরানসহ ইয়েমেন ও লেবাননের মিত্রদের প্রতিরোধকেও তিনি গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করেন। খামেনির সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার হিসেবে মারে ইরানি জনগণের ঐক্য ও সংহতিকে চিহ্নিত করেছেন, যা যেকোনো সামরিক হামলার মুখেও অটুট ছিল। এছাড়াও পশ্চিমা গণমাধ্যমে ইরান সম্পর্কে যে নেতিবাচক ধারণা প্রচার করা হয়, তার সমালোচনা করেন মারে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরান একটি বৈচিত্র্যময় দেশ যেখানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরাও স্বাধীনভাবে বসবাস করেন। খামেনির মৃত্যুর পর তার রাজনৈতিক দর্শন দুর্বল হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে তিনি মনে করেন, কারণ বিশ্বাস ও আদর্শ মানুষের প্রতিরোধকে সর্বদা টিকিয়ে রাখে। পরিশেষে মারে জানান, একজন নেতার প্রকৃত মূল্যায়ন তার জীবনাদর্শ ও রেখে যাওয়া উত্তরাধিকারের মধ্যেই নিহিত থাকে।
মন্তব্য করুন