ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষেও কোনো জোট সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পায়নি। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোট ৫৩টি এবং গাদি আইজেনকটের বিরোধী জোট ৪৮টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। ক্ষমতার সমীকরণে ১৯টি আসন পাওয়া আরব রাজনৈতিক জোটগুলো বড় নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছে।
ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনে অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন। প্রাথমিক ফলাফলে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোট ৫৩টি আসনে জয় পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। এখনও পাঁচ লাখের বেশি বিশেষ ব্যালট (সেনাসদস্য ও কূটনীতিকদের ভোট) গণনা বাকি থাকায় চূড়ান্ত ফলাফলে সামান্য পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর এটিই ইসরায়েলের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনে আরব ভোটারদের অভূতপূর্ব উপস্থিতির পর দুটি প্রধান আরব রাজনৈতিক জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’ ও ‘রা’আম’ সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসনে জয়ের পথে রয়েছে। সরকার গঠনে আরব জোটগুলো সিদ্ধান্ত নির্ধারক ভূমিকায় চলে এসেছে। তবে আরব জোটের নেতা ইউসেফ জাবরিন জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে তারা যেকোনো বিকল্প সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দিতে রাজি থাকলেও সরাসরি সরকারে যোগ দেবেন না।
এদিকে ফল প্রকাশের মাঝেই পরাস্ত হওয়ার আশঙ্কায় আরব অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলোতে সহিংসতা, ঘুষ ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি। যদিও এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি। অন্যদিকে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট দাবি করেছে, সাধারণ মানুষ নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছে। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করবেন। তবে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন নেতানিয়াহু।