যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার তীব্র আশঙ্কা এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থমকে যাওয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ইরানের অর্থনীতি। দেশটির মুদ্রাবাজারে হু হু করে মান হারাচ্ছে ইরানি মুদ্রা রিযাল, যা ইতিহাসের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে নতুন এক সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে গিয়ে ঠেকেছে। সম্প্রতি তেহরানের উন্মুক্ত বা খোলাবাজারে প্রতি এক মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য ২০ লাখ রিযাল বা ২ লাখ তোমান ছাড়িয়ে গেছে।
মুদ্রাবাজারের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের শুরুতেই প্রতি ডলারের বিপরীতে দাম ছিল প্রায় ১৮ লাখ ৬৫ হাজার রিযাল। অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহ কিংবা তারও কম সময়ের ব্যবধানে মার্কিন মুদ্রার বিপরীতে ইরানি মুদ্রার মান ৭ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। মূলত বিদেশি মুদ্রার লাগামহীন চাহিদা বৃদ্ধি এবং ইরানের তেল রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মাঝে তীব্র উদ্বেগ কাজ করছে। সরকারি মুদ্রা বাজারের বিনিময় হার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকায় মুক্তবাজারের এই বেহাল দশা মূলত দেশটির প্রকৃত অর্থনৈতিক সংকটের বাস্তব চিত্রই তুলে ধরে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতার জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমা কোনো ধরনের ফলপ্রসূ ও বিস্তৃত চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছিল। ওই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় ইরানের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা তহবিল ছাড় পাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। উল্টো মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা কঠোর করার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বৈদেশিক বাণিজ্যে তৈরি হওয়া এই চরম অনিশ্চয়তা ও আস্থার সংকটের কারণে ইরানি রিযালের এই রেকর্ড দরপতন দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও বেশি দুর্বিষহ করে তুলছে।
মন্তব্য করুন