যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত গুরুত্বপূর্ণ ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি’ (এমওইউ) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত এক সপ্তাহে মার্কিন সামরিক হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে আগ্রাসনের অভিযোগে তেহরান এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইরানের স্পষ্ট বার্তা হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য তারা যেকোনো মূল্য দিতে প্রস্তুত এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন কোনো আলোচনার পথ এখন আর খোলা নেই।
চলতি বছরের ১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিলেন। চুক্তির মূল শর্ত ছিল, ইরান হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ রাখবে এবং এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে তেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা ও বন্দর অবরোধ শিথিল করবে। তবে গত ৫ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনার পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। ওয়াশিংটন এই হামলার জন্য সরাসরি ইরানের আইআরজিসি-কে দায়ী করে ৭ জুলাই থেকে নতুন করে সামরিক হামলা শুরু করে।
পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে যখন ১৩ জুলাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে পুনরায় নৌ-অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী সব বাণিজ্যিক জাহাজকে ২০ শতাংশ হারে টোল প্রদানের নির্দেশ দেন তিনি। ট্রাম্পের এই ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরান চুক্তিতে থাকা নিজেদের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত জানাল। এদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে যে অবরোধ পুনর্বহালের পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ঘটনাপ্রবাহ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে আবারও এক অনিশ্চিত ও সংঘাতময় পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।
মন্তব্য করুন