ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়টি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই ধরনের আলোচনার সম্ভাবনাকে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ‘অবাস্তব’ এবং ‘অবাস্তবসম্মত’ বলে মন্তব্য করেছেন। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সশরীরে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে ট্রাম্প বলেছিলেন, পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় তার ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে কোনো এক সময় তাদের মধ্যে এই সাক্ষাৎ হতে পারে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যের পরদিনই লেবাননভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল মায়াদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি স্পষ্ট করে জানান যে, এই মুহূর্তে এমন কোনো বৈঠকের বাস্তব ভিত্তি নেই।
সাক্ষাৎকারে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, ট্রাম্প বৈঠকে বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এমন একটি প্রতিবেদন তার নজরে এসেছে। তবে বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে কেবল ইচ্ছার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না, বরং সবাইকে বাস্তববাদী হতে হবে এবং বাস্তবতার ভেতরে থেকেই চিন্তা করতে হবে। প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এক যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হন। এর পর মার্চ মাসে মোজতবা খামেনি দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আরাগচি জানান, যে ভবনে হামলাটি হয়েছিল, তিনি নিজে সেটির অন্য একটি অংশে অবস্থান করায় অলৌকিকভাবে অক্ষত ছিলেন। নতুন সর্বোচ্চ নেতার নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মোজতবা খামেনি বর্তমানে রাষ্ট্রীয় প্রতিটি সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সক্রিয় ও কার্যকরভাবে গ্রহণ করছেন এবং দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে জনসমক্ষে খুব একটা দেখা না যাওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি। তিনি জানান, চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতি এবং কঠোর নিরাপত্তাজনিত সতর্কতার কারণেই মূলত তাকে সাধারণ মানুষের সামনে আনা হচ্ছে না। যদিও গত ৮ এপ্রিল থেকে অঞ্চলটিতে একটি নাজুক ও সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও সর্বোচ্চ নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন তেহরানের মূল অগ্রাধিকার। আরাগচি আরও প্রকাশ করেন যে, সংকট সমাধানের লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে এবং সরাসরিও বেশ কয়েক দফা আলোচনা বা কূটনৈতিক যোগাযোগ হয়েছে। তবে দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধান কিংবা কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো এখনও সম্ভব হয়নি বলেই এই মুহূর্তে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক অলীক কল্পনা মাত্র।
পরিশেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটনকে যদি সত্যিই কোনো অগ্রগতি অর্জন করতে হয়, তবে তাদের সবার আগে ইরানের আঞ্চলিক শক্তি ও বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে। তেহরানকে দেখার পুরনো দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে মার্কিন প্রশাসনকে সম্মানজনক কূটনীতির পথে হাঁটার আহ্বান জানান তিনি। ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিমুখী নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক আগ্রাসনের ইতিহাসকে সামনে রেখে ইরান যে এত সহজে কোনো আলোচনায় বসছে না, আরাগচির এই বক্তব্য তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। ফলে ট্রাম্পের এই আলোচনার প্রস্তাবকে কেবলই সস্তা রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছে তেহরান, যার বাস্তব কোনো কার্যকারিতা নিকট ভবিষ্যতে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
মন্তব্য করুন