ইরানের আকাশ এখন এক চরম উত্তেজনার চাদরে ঢাকা। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) থেকে আসা সাম্প্রতিক এক ঘোষণা পুরো বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে আজ পর্যন্ত যত সামরিক অভিযান হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এবং বিধ্বংসী আক্রমণের প্রস্তুতি তারা সম্পন্ন করেছে। আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, ‘কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই’ এই অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা আমেরিকান ঘাঁটি এবং তাদের ভাষায় ‘দখলকৃত ভূখণ্ডগুলোকে’ লক্ষ্য করেই এই ব্যাপক হামলা চালানো হবে।
এই পরিস্থিতির মূলে রয়েছে এক অভাবনীয় ও সংঘাতময় ঘটনা। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এক যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নিহত হওয়ার খবরটি এখন নিশ্চিত। শনিবার সকালে খামেনির প্রাসাদ লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর ওই আকস্মিক হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে শুরু করে। প্রথমে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলেও ইরান শুরুতে বিষয়টি নিয়ে নীরব ছিল। তবে আজ সকালে দেশটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রধান ধর্মীয় নেতার মৃত্যুর খবর স্বীকার করে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
এখন সবার চোখ আইআরজিসি-র পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। তেহরানের পক্ষ থেকে আসা এই কড়া হুঁশিয়ারি কেবল মৌখিক হুমকি নাকি এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সূচনা, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে চলছে গভীর উদ্বেগ। খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের অভ্যন্তরীণ আবেগ এখন ক্ষোভে রূপ নিয়েছে, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে তাদের পাল্টা আক্রমণের এই ঘোষণায়। কয়েক দশকের বৈরিতার পর এই ঘটনাটি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক চূড়ান্ত এবং বিপজ্জনক মোড় হিসেবে দেখা দিচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলের মানচিত্র এবং স্থিতিশীলতাকে চিরতরে বদলে দিতে পারে।
মন্তব্য করুন