একবিংশ শতাব্দীতে যুদ্ধের সংজ্ঞা বদলে গিয়ে ‘ডেটা’ বা তথ্য এখন সবচেয়ে বড় অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। এই তথ্যকে জিম্মি করে বিশ্বজুড়ে সাইবার অপরাধীরা যে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে, তার নাম ‘র্যানসমওয়্যার’। এটি মূলত একটি বিশেষ ধরনের ম্যালওয়্যার যা কোনো সিস্টেমের ফাইলগুলোকে এনক্রিপ্ট বা লক করে দেয় এবং ফাইলগুলো আনলক করার বিনিময়ে বিটকয়েন বা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে। বর্তমানে হ্যাকাররা ‘ডাবল এক্সটরশন’ মডেল ব্যবহার করছে, যেখানে টাকা না দিলে তথ্য ইন্টারনেটে ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জেনিফার আলম এবং গবেষক রাইয়ান আ. মালিকের মতে, র্যানসমওয়্যার কেবল একটি সাধারণ ভাইরাস নয়, এটি একটি সুসংগঠিত ‘সাইবার ক্রাইম বিজনেস মডেল’। হ্যাকাররা ফিশিং ইমেইল, আরডিপি প্রোটোকলের দুর্বলতা বা আনপ্যাচড সফটওয়্যারের মাধ্যমে সিস্টেমে প্রবেশ করে। গতানুগতিক অ্যান্টিভাইরাস বর্তমানে এই উচ্চমাত্রার এনক্রিপশন অ্যালগরিদম (যেমন AES-256 বা RSA-2048) মোকাবিলায় যথেষ্ট নয়। তাই সুরক্ষার জন্য ইডিআর (EDR), নেটওয়ার্ক সেগমেন্টেশন এবং অফলাইন বা এয়ার-গ্যাপড ব্যাকআপ রাখা অপরিহার্য। পাশাপাশি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ‘হিউম্যান ফায়ারওয়াল’ হিসেবে গড়ে তুলতে নিয়মিত সাইবার হাইজিন প্রশিক্ষণ প্রদান করা প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন