বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান আজ জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ রবিবার, ৫ জুলাই, তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন দীর্ঘদিনের বন্ধু ও জীবনসঙ্গী গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে। তবে এবারের বিয়ের আয়োজন একেবারেই প্রথাগত বলিউডি জাঁকজমক থেকে আলাদা। নিজের মুম্বাইয়ের বাসভবনেই অত্যন্ত ঘরোয়া ও ব্যক্তিগত পরিসরে সম্পন্ন হচ্ছে এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা।
আমির ও গৌরী দুজনেই চেয়েছেন দিনটি যেন কাটুক কেবল পরিবারের মানুষ এবং ঘনিষ্ঠতম বন্ধুদের সান্নিধ্যে। জানা গেছে, আমন্ত্রিত অতিথির সংখ্যা মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ জনের মতো। আমন্ত্রিতদের তালিকায় রয়েছেন আমির খানের তিন সন্তান জুনায়েদ, ইরা ও আজাদ রাও খান এবং তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু নির্মাতা আশুতোষ গোয়ারিকর ও রাজকুমার হিরানিসহ অল্প কিছু চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব। বিয়ের আয়োজনের প্রতিটি খুঁটিনাটি পরিকল্পনা থেকে শুরু করে মধ্যাহ্নভোজের মেনু সবই এই তারকা জুটি নিজেরা তদারকি করেছেন। তাঁদের দুজনের পছন্দের খাবারেই সাজানো হয়েছে বিয়ের ভোজের আয়োজন।
গত বৃহস্পতিবার নিজের নতুন সিরিজ ‘প্রীতম অ্যান্ড পেড্রো’র প্রচারণায় এসেই আমির খান আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের ঘোষণা দেন। তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে সবার কাছে দোয়া চেয়ে বলেছেন, এই দিনটি তাদের জন্য খুবই বিশেষ এবং তারা খুব সীমিত পরিসরে এই নতুন পথচলা শুরু করতে চান।
আমির ও গৌরীর বন্ধুত্বের শেকড় প্রায় ২৫ বছরের পুরনো। দীর্ঘ সময় যোগাযোগ না থাকলেও কয়েক বছর আগে তাঁদের পুনর্মিলন হয়, যা ধীরে ধীরে গভীর ভালোবাসায় রূপ নেয়। গত বছর আমিরের ৬০তম জন্মদিনে তিনি প্রথমবারের মতো গৌরীকে সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দেন। আমির জানিয়েছেন, জীবনের এই পর্যায়ে এসে গৌরীর মধ্যে তিনি যে শান্তি ও স্থিরতা পেয়েছেন, তা তাঁর জীবনকে নতুন অর্থ দিয়েছে। পেশায় উদ্যোক্তা গৌরী স্প্র্যাট বরাবরই প্রচারের আড়ালে থাকতে পছন্দ করেন। আমিরকেও তিনি একজন সুপারস্টার হিসেবে নয়, বরং একজন নির্ভরযোগ্য সঙ্গী হিসেবেই দেখেন।
উল্লেখ্য, এটি আমির খানের তৃতীয় বিয়ে। ১৯৮৬ সালে রিনা দত্তের সঙ্গে বিয়ের পর ২০০২ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে তিনি কিরণ রাওকে বিয়ে করেন, যার সঙ্গে ২০২১ সালে বিচ্ছেদ হলেও আজও তাঁদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট। নতুন জীবনে পা রাখা আমির ও গৌরীর জন্য এখন শুভকামনাই জানাচ্ছেন তাঁদের অসংখ্য ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
আমির খানের জীবনের এই নতুন যাত্রাকে আপনি কীভাবে দেখছেন? জীবনের এই পর্যায়ে এসে তাঁর এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কী? আপনার মতামত আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন।
মন্তব্য করুন