চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (SSC) এবং সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। এবারের পরীক্ষায় সব বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২.২৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। এর আগে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৬৮.৪৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী। সেই তুলনায় এ বছর পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কিছুটা কমেছে। ফলাফল প্রকাশের এই অনুষ্ঠানে খাতা পুনঃনিরীক্ষণ বা খাতা চ্যালেঞ্জ নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
আজ সোমবার সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশের সময় শিক্ষামন্ত্রী জানান যে, এবার থেকে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্রগুলো সম্পূর্ণভাবে পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে। এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় খাতার নম্বরে কোনো ধরনের ত্রুটি বা ভুল ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে তা সংশোধনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বোর্ডের ১৯৯৮ সালের পুরনো আইন অনুযায়ী আগে খাতা পরিদর্শনের কোনো সুযোগ বা ব্যবস্থা ছিল না। বর্তমান যুগের চাহিদা ও শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সেই নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা খাতা পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করলে তাদের উত্তরপত্রগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পুনরায় যাচাই করা হবে এবং কোনো ভুলত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা হবে।
পরীক্ষার এই ফলাফ্লে সন্তুষ্ট না হওয়া শিক্ষার্থীরা আগামী ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছেন। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে শিক্ষা বোর্ডগুলোর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা যথারীতি অনলাইন ওয়েবসাইট এবং মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠিয়েও নিজেদের ফলাফল জেনে নিতে পারছেন। সব মিলিয়ে এবারের এসএসসি ফলাফল এবং শিক্ষামন্ত্রীর নতুন এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ বড় ধরনের ইতিবাচক আলোচনা তৈরি করেছে।
মন্তব্য করুন