যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার থেকে প্রকাশিত প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল কর্মসংস্থানের তথ্য আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটিয়েছে। এর ফলে চলতি মাসে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর আশঙ্কা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, যার সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে মূল্যবান এই ধাতুর বাজারে। গত শুক্রবার আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ২২৩ ডলার ৪৯ সেন্টে উন্নীত হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের আগাম সরবরাহের চুক্তির দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৫৪ ডলার ১০ সেন্টে এসে ঠেকেছে।
মার্কিন সরকারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে দেশটিতে অকৃষি খাতের বাইরে নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে মাত্র ২৯ হাজার, যা রয়টার্সের জরিপে অংশ নেওয়া অর্থনীতিবিদদের ৯০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পূর্বাভাসের চেয়ে অনেক কম। কর্মসংস্থানের এই ধীরগতির কারণে মার্কিন ডলারের দর কিছুটা দুর্বল হয়েছে এবং সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী চলতি মাসে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ২৮ শতাংশ থেকে নেমে মাত্র ১৪ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সুদের হার বাড়ার প্রত্যাশা কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাজারে আগের অতিরিক্ত দরপতনের কারণে স্বর্ণের দাম ঘুরে দাঁড়ানোর এই সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে সাপ্তাহিক হিসেবে বিচার করলে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং গত বৃহস্পতিবার মার্কিন ১০ ও ৩০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর কারণে সার্বিকভাবে স্বর্ণের দাম প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাসের ধারায় রয়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার পর থেকে স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের চাপ লক্ষ্য করা গেলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বল্পমেয়াদে স্পট মার্কেটে এর দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন বাইবিটের প্রধান বাজার বিশ্লেষক হান তান। স্বর্ণের পাশাপাশি শুক্রবারের বাজারে রুপার দাম ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬২ ডলার ৭ সেন্ট, প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৪০ ডলার ৫৩ সেন্ট এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৯৭ ডলার ৪৭ সেন্টে পৌঁছাতে দেখা গেছে।
মন্তব্য করুন