বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭৩ ডলারে নেমে এলেও বাংলাদেশে দাম কমার সম্ভাবনা আপাতত নেই। এর কারণ হিসেবে লোকসান ও শুল্কের হিসেব দিয়েছে বিপিসি। বিস্তারিত পড়ুন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ফলে হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ৭৫ ডলারের নিচে নেমে এলেও বাংলাদেশে এর সুফল পেতে আপাতত অপেক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও গত চার মাসে হওয়া ১৭ হাজার কোটি টাকার লোকসান এবং উচ্চ আমদানি শুল্কের কারণে আপাতত দেশে তেলের দাম কমানোর পরিকল্পনা নেই সরকারের।
বিপিসির তথ্যমতে, ডিজেল আমদানিতে প্রতি লিটারে সরকারের বিভিন্ন শুল্ক ও খরচ মিলিয়ে ব্যয় প্রায় ১২৯ টাকা, সেখানে বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকায়। এনবিআর প্রতি লিটারে ৩৫ টাকা শুল্ক হিসেবে গ্রহণ করলেও বিপিসিকে লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রতি লিটারে প্রায় ১৪ টাকা করে। তবে অকটেন ও পেট্রোল থেকে কিছু মুনাফা আসায় বিপিসি তার আর্থিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে। সরকার ও জ্বালানি বিভাগ এখন লোকসান সমন্বয় করতে এনবিআর-এর আমদানি শুল্ক মওকুফের বিষয়ে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে।
বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক। ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি মজুত প্রায় ২২ থেকে ৭৬ দিন পর্যন্ত চলার মতো সক্ষমতায় রয়েছে। আগামী আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেলসহ বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানির দরপত্র চূড়ান্ত হয়েছে। তবে বিশ্ববাজারের এই দাম দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে। কারণ, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত চুক্তি ২১ আগস্টের মধ্যে সম্পাদিত না হলে বিশ্ববাজারে আবারো অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমায় বিপিসির আমদানিতে লোকসানের পরিমাণ কিছুটা কমলেও, সাধারণ মানুষ আপাতত তেলের দাম কমার সুফল পাচ্ছেন না। জুলাই মাসে নতুন করে দাম সমন্বয় করা হতে পারে, যা নির্ভর করবে গত মাসের গড় আমদানি ব্যয়ের ওপর। সরকার ও বিপিসির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শুল্ক কাঠামোতে পরিবর্তন আসলে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।